গোটা দেশ যখন নজিরবিহীন বিমান চলাচলের সঙ্কটে ভুগছে, তখন গোয়া নাইটক্লাবের মালিক ভ্রাতৃদ্বয় সৌরভ ও গৌরব লুথরা সেই ইন্ডিগোরই বিমানে চেপে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

রেড কর্নার নোটিস জারি হয় কেবলমাত্র পলাতককে আটক করার ক্ষেত্রে।
শেষ আপডেট: 10 December 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা দেশ যখন নজিরবিহীন বিমান চলাচলের সঙ্কটে ভুগছে, তখন গোয়া নাইটক্লাবের মালিক ভ্রাতৃদ্বয় সৌরভ ও গৌরব লুথরা সেই ইন্ডিগোরই বিমানে চেপে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আগুন লেগে ২৫ জনের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা এদেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার পর থাইল্যান্ডের ফুকেটে গৌরবকে দেখতে পাওয়া, ইন্টারপোলের ব্লু কর্নার নোটিস, সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে অপরাধে অভিযুক্তরা কী করে সকলের চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। কারণ বাস টার্মিনাস, রেল স্টেশন ও বিমানবন্দরের মধ্যে অনেক ফারাক। বিশেষত বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে নামকাওয়াস্তে এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও।
লুথরাদের দুই ভাই কোনও ব্যতিক্রম নয়। দাউদ ইব্রাহিম থেকে বিজয় মাল্য, নীরব মোদী- কে নেই এই তালিকায়? ইন্টারপোলের ব্লু কর্নার নোটিসের অর্থ- কোনও ব্যক্তির পরিচয় ও অতীত জীবন সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জোগাড় করা। তাঁর চলতি অবস্থান সম্পর্কে হালহকিকত রাখা। অন্যদিকে, রেড কর্নার নোটিস জারি হয় কেবলমাত্র পলাতককে আটক করার ক্ষেত্রে। যদি তাঁর বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা এবং চার্জশিট দাখিল হয়ে থাকে তবে।

জেট এয়ারওয়েজের প্রাক্তন মালিক ৯,০০০ কোটি টাকার প্রতারণা-জালিয়াতির অভিযোগে দিল্লি থেকে লন্ডন পালিয়ে গিয়েছিলেন ২০১৬ সালের ২ মার্চ। মাল্য যখন পালিয়ে যান, তখনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আদালত থেকে দেশে থাকার অনুমতি আদায় করা হয়নি। অভিবাসন দফতর কেবলমাত্র একটি লুকআউট সার্কুলার পেয়েছিল যাতে লেখা ছিল বিজয় মাল্য যদি কোথাও যেতে চান, তাহলে যেন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু তাঁর যাত্রায় বাধা দেওয়া যাবে না।
আদালত ও সংবাদ মাধ্যমের খবর বলছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে তাঁর বিদেশযাত্রা আটকাতে আদালতের নির্দেশ বের করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু, সেই গোপন কথাটি আগেভাগেই পৌঁছে গিয়েছিল মাল্যর কাছে। ১ মার্চ রাতে বিজয় মাল্য বিমানবন্দরে পৌঁছন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট (রাজ্যসভার এমপি হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল) ব্যবহার করে লন্ডনগামী উড়ানে বসে পড়েন। কেউ তাঁকে আটকায়নি।

তাঁর ব্যাগ তুলে দিয়েছিল জেট এয়ারওয়েজের কর্মীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক তিনি প্রিমিয়াম লাউঞ্জে অপেক্ষা করেছিলেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে যাওয়ার ছাড়পত্রও দিয়ে দেয়। তাঁর টিকিট কয়েক ঘণ্টা আগে কাটা হয়েছিল। তাতেই প্রমাণ হয় যে, তিনি বিপদে পড়তে পারেন এটা আঁচ করেই তড়িঘড়ি দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১১,৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশ ছেড়ে পালান নীরব মোদী। ২০১৮ সালে জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে দেশ ছাড়েন তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি যখন দেশ ছাড়েন তখনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও লুকআউট নোটিস জারি করা হয়নি। সব অভিযোগের কাগজপত্র তৈরি করে ১৩ ফেব্রুয়ারি সিবিআই যখন এফআইআর দায়ের করে ততক্ষণে নীরব মোদী ও তাঁর পরিবার পগাড়পার।

পিএনবি প্রতারণায় অভিযুক্ত মেহুল চোকসী, ইডি মামলায় অভিযুক্ত ললিত মোদী সকলেই এভাবে এজেন্সির ‘লম্বা হাতের’ নাগালে আসার আগে ‘লম্বা পাড়ি’ দিয়েছেন বিদেশে। গোয়া থেকে লন্ডন থেকে হংকং। পালানোর ধরনটা বদল হয়নি। প্রতিবারই দেখা গিয়েছে, ধনীরা আইনের নাগালে আসার আগেই নিরাপদে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। যতক্ষণে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে, ফাইলপত্র তৈরি হয়েছে, লুকআউট নোটিসের লাল ফিতে কেটেছে, ততক্ষণে প্রভাবশালী অভিযুক্ত পাখিরা উড়ে গিয়েছে, তাদের আর নাগাল মেলেনি।