ওয়েব সিরিজের অডিশনের নাম করে ডেকে এনে ১৭ কিশোর–কিশোরীকে স্টুডিওয় আটকে রাখেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পণবন্দি করে রাখার পর পুলিশের অভিযানে বাচ্চাদের উদ্ধার করা হয়; গুলিতে প্রাণ হারান আর্য।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 November 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের পাওয়াইয়ে (Mumbai Hostage Crisis) যে নাটকীয় কাণ্ড ঘটেছে, তা কোনও হঠকারি সিদ্ধান্ত নয় - আগে থেকেই ঠান্ডা মাথায় এর পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্ত রোহিত আর্য (Rohit Arya)। পুলিশের তদন্ত এমনটাই বলছে।
ওয়েব সিরিজের অডিশনের (Audition) নাম করে ডেকে এনে ১৭ কিশোর–কিশোরীকে স্টুডিওয় আটকে রাখেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পণবন্দি করে রাখার পর পুলিশের অভিযানে বাচ্চাদের উদ্ধার করা হয়; গুলিতে প্রাণ হারান আর্য।
অডিশনের ছুতোয় ছক
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহেই বাচ্চাদের অডিশনের জন্য ডেকেছিলেন আর্য। ২৬ অক্টোবর থেকে স্টুডিওয় ‘শুটিং’-ও শুরু হয়। প্রথম তিন দিন সব স্বাভাবিক মনে হলেও মঙ্গলবার থেকেই সন্দেহের আঁচ পাওয়া যায়। এক শিশুর আত্মীয় জানিয়েছেন, ওই দিন থেকেই জানালা–দরজা কালো কাগজে ঢেকে ফেলা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, সূর্যের আলোয় নাকি শুটিং হচ্ছিল না।
দীর্ঘ অবরোধের প্রস্তুতি
তদন্তে জানা গেছে, আগে থেকেই প্রচুর খাবার মজুত রাখা হয়েছিল সেখানে। স্টুডিওর দরজার নষ্ট তালা আগে থেকেই সারিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রাখা হয়েছিল মুভমেন্ট সেন্সর—যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে টের পান আর্য। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়েছিল সিসিটিভি, যার ছবি তিনি মোবাইলে নজরে রাখছিলেন।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাচ্চাদের লড়াই’ - ছিল শুটিংয়ের গল্প
সহকারী রোহন রাজ আহেরকে আর্য জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাচ্চাদের বিদ্রোহ নিয়ে একটি শর্ট ফিল্ম (Short Film) করছেন। সেই ছবিতে একটি ‘অপহরণের দৃশ্য’ও (Kidnapping Scene) আছে। তাই এইভাবে শুটিং হচ্ছে - এমনটাই বিশ্বাস করিয়ে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাচ্চাদের মুখে টেপ লাগিয়ে বলেন, দিনটিতে সে অপহরণের দৃশ্য শ্যুট করবেন।
অভিভাবকদের কাছে ভিডিও, তারপর আতঙ্ক
দুপুর দেড়টা নাগাদ বাচ্চারা বাইরে না আসায় তাঁদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ভিডিও পাঠান আর্য। তাতেই প্রথম স্পষ্ট হয়, বাচ্চারা আসলে পণবন্দি। তিনি জানান, সমস্ত বাচ্চা স্টুডিওর ভিতরে আটক।
পেট্রোল, আতশবাজি, দাহ্য তরল - চরম ছকের ইঙ্গিত
আর্যের সহকারী জানান, তাঁকে পাঁচ লিটার পেট্রোল ও আতশবাজি আনতে বলা হয়েছিল। স্টুডিওর মেঝেতেও দাহ্য তরল ছড়িয়ে রাখেন আর্য। এক সময়ে চার শিশুকে সামনে রেখে আগুন লাগানোর হুমকি দেন তিনি। সহকারী ভাঙা দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে ‘এয়ারগান’ দেখিয়ে আটকান আর্য।
রক্ষাকর্তা পুলিশ
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পুলিশ কৌশলে বিল্ডিংয়ের নীচের ফ্লোরে থাকা সহকারীকে কাজে লাগায়। তাঁর সহায়তায় পুলিশ ভিতরে ঢোকে। এক পুলিশকর্মী বাথরুমের জানলা দিয়ে ঢুকে আরেকদলকে পথ দেখান। মুখোমুখি সংঘর্ষে আর্য গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাচ্চাদের নিরাপদে উদ্ধার করে পুলিশ।
পাওয়াইয়ের এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, ওয়েব সিরিজ বা অডিশনের নামে বাচ্চাদের কোথায় ও কীভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার উপর নজরদারি কি আরও বাড়ানো উচিত? পুলিশের মতে, সতর্ক থাকলেই অনেক বিপদ প্রতিরোধ সম্ভব।