তবুও রোহিত-অঞ্জলি দম্পতি ফ্ল্যাট ছাড়েননি। বাধ্য হয়ে মালিক পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশি হস্তক্ষেপের পর অবশেষে মে মাসে তাঁরা ফ্ল্যাট খালি করেন এবং আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান।

মুম্বই পণকাণ্ড
শেষ আপডেট: 1 November 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের (Mumbai Hostage) পাওয়াইয়ে যে নাটকীয় পণবন্দির ঘটনা ঘটেছিল, তাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অভিনেতা ও মিডিয়া উদ্যোক্তা রোহিত আর্যর (Rohit Arya)। তবে তার মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এক অজানা অধ্যায়— এক দীর্ঘ ভাড়াবিরোধ, প্রতিবেশীদের অভিযোগ আর আর্থিক টানাপড়েনের গল্প।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর, রোহিতের স্ত্রী অঞ্জলি আর্যের নামে কথরুদের শিবতীর্থ নগরের এক ফ্ল্যাটে ৩৬ মাসের ভাড়াচুক্তি সই হয়। ফ্ল্যাটটির মালিক ছিলেন দেশপান্ডে নামে এক ব্যক্তি। চুক্তির পর রোহিত দম্পতি সেখানে ওঠেন। কিন্তু অচিরেই প্রতিবেশীদের অভিযোগ শুরু হয় তাঁদের ‘অশালীন আচরণ’ নিয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ির মালিক নোটিস দেন— এক মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট ছাড়তে হবে।
রোহিত সেই নির্দেশ মানেননি। বরং ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ২ মার্চ মালিক আইনি নোটিস পাঠান, যাতে ফ্ল্যাট খালি করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু রোহিত পাল্টা দাবি তোলেন, ফ্ল্যাট ছাড়ার জন্য তাঁকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এরপর ২৪ ও ২৯ মার্চ উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক লিখিত চিঠিপত্র বিনিময় হয়। শেষমেশ মালিক রাজি হন ১.৭৫ লক্ষ টাকা দিতে, এবং স্ট্যাম্প পেপারে তার চুক্তিও হয়।
তবুও রোহিত-অঞ্জলি দম্পতি ফ্ল্যাট ছাড়েননি। বাধ্য হয়ে মালিক পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশি হস্তক্ষেপের পর অবশেষে মে মাসে তাঁরা ফ্ল্যাট খালি করেন এবং আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান।
এরপরই আসে ৩০ অক্টোবরের সেই ভয়াবহ দিন। পাওয়াইয়ের স্টুডিওতে ১৭টি শিশু ও ২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে ভিতরে আটকে রাখেন রোহিত। শিশুদের বলা হয়েছিল— এটি নাকি একটি ‘অডিশন’। দু' ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর পুলিশ পিছনের দিক দিয়ে বাড়িটিতে ঢুকে অভিযান চালায়। গুলিতে আহত হন রোহিত, পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা গেলেও রোহিতের মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ঘটনার আগেই তোলা এক ভিডিওতে রোহিত দাবি করেন— মহারাষ্ট্র শিক্ষা দফতরের এক প্রকল্পের টাকা তিনি পাননি, সেই ক্ষোভেই তিনি এই পদক্ষেপ নেন। তবে রাজ্য সরকার সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।