যে সময়ে বাইরে পুলিশের উদ্ধার অভিযান চলছিল, সেই সময়ে ভিতরে আর্যর চোখ এড়িয়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছিলেন পাতনকর। পরে কাচ ভেঙে আহতও হন তিনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের পাওয়াইয়ের পণবন্দি কাণ্ডে (Mumbai Hostage Crisis) এক প্রৌঢ়ার উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতা বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে ১৭ শিশুকে। অডিশনের কথা বলে ডেকে এনে শিশুদের আটকে রেখেছিল রোহিত আর্যা (Rohit Arya) নামের ওই ব্যক্তি। সেই সময় স্টুডিওতেই ছিলেন নাতনিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসা মঙ্গলা পাতনকর (Mangala Patankar)। তিনিই সঙ্কটের মুহূর্তে বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ান, তাঁদের শান্ত রাখেন, এমনকী বাইরে থাকা অভিভাবকদের ছবি পাঠিয়ে আশ্বস্তও করেন।
যে সময়ে বাইরে পুলিশের উদ্ধার অভিযান চলছিল, সেই সময়ে ভিতরে আর্যর চোখ এড়িয়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছিলেন পাতনকর। পরে কাচ ভেঙে আহতও হন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকেই জানালেন, কীভাবে দুঃস্বপ্নের তিন ঘণ্টা কাটিয়েছেন।
পাতনকর জানান, প্রথমে আর্য কয়েকজন শিশুকে তাঁর কাছে রেখে বাকিদের উপরে নিয়ে যায়। পরে তাঁকেও ডেকে নেয় উপরে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, সবকিছু পরিকল্পিত। জানালায় কালো পর্দা, আতঙ্ক তৈরি করতে বোমার হুমকি - সব ছিল সাজানো চাল।
আর্য চার শিশুকে দিয়ে অভিভাবকদের ফোন করিয়ে ১ কোটি টাকা করে দাবি করে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া আতঙ্ক ছড়াতে বাজি ফাটিয়ে বলে, বাইরে নাকি গুলি চলছে, তাই কেউ বেরোতে পারবেন না। প্রৌঢ়া জানান, প্রথম থেকে মিষ্টি স্বভাব বজায় রেখেছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু পরে আসল সত্ত্বা বেরিয়ে আসে।
পুলিশ যথাসময়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে এবং শুধু শিশুদের উদ্ধারই করেনি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খতমও করে।
কোন পথে হল এই অপারেশন
দুপুর ১.৩০ — পাওয়াই থানায় ফোন আসে, মহাবীর ক্লাসিক ভবনের আরএ স্টুডিওয় কয়েকজন শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে।
দুপুর ১.৪৫ — ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, কুইক রেসপন্স টিম, বম্ব স্কোয়াড ও দমকল। শুরু হয় আলোচনার চেষ্টা। বন্দুকধারীর নাম জানা যায় - রোহিত আর্যা (৫০)।
দুপুর ২.১৫ — রোহিত ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে দাবি করে, মহারাষ্ট্র শিক্ষা দফতরের কাছে তার দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, তাই শিশুদের আটক রেখেছে।
দুপুর ২.৪৫ — কাচের জানলা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া শিশুদের দেখা যায়। রোহিত আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে, আগুন লাগানোর হুমকি দেয়।
বিকেল ৩.১৫ — দমকলের সাহায্যে ভবনের ডাক্ট দিয়ে উঠে পুলিশের দুটি টিম ভিতরে ঢোকার পরিকল্পনা করে। একদল কাচ কেটে, অন্যদল বাথরুম ভেন্ট দিয়ে এগোয়।
বিকেল ৪.৩০ — শেষবার আলোচনায় নতি স্বীকার না করায়, পুলিশ একবার গুলি চালায়। রোহিতের বুকে লাগে।
বিকেল ৪.৪৫ — নিরাপদে উদ্ধার হয় সব শিশু। হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোহিতকে মৃত ঘোষণা করা হয়।