
‘ভারতের নাগরিকদের তরফ থেকে নমস্কার’।
শেষ আপডেট: 28 September 2025 08:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভারতের নাগরিকদের তরফ থেকে নমস্কার’। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভায় এভাবেই দেশীয় সৌজন্য তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার (স্থানীয় সময়) রাষ্ট্রসঙ্ঘে তিনি সাফ বলেন, বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাস ছড়ানো বরদাস্ত করবে না ভারত। কিছু দেশ আছে, যারা সন্ত্রাসবাদকেই রাষ্ট্রনীতি করে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘ যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কিছু নীতিআদর্শের উপর দাঁড়িয়ে তা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘ বিশ্বাস করে যে, কেবল যুদ্ধ থামালেই চলবে না, শান্তি প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি। অধিকার রক্ষা করাই শেষ কথা নয়, প্রতিটি মানুষের সম্মানকে উচ্চে তুলে ধরাই কাজ।
পাকিস্তানের নাম না করে জয়শঙ্কর জম্মু-কাশ্মীরের পহলগামে জঙ্গি হানায় ২৬ জনের মৃত্যুর দৃষ্টান্তে টেনে আনেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারত এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে এসেছে। ভারত এমন প্রতিবেশীর সঙ্গে বাস করে, যারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রভূমি। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের বড় বড় জঙ্গি কার্যকলাপের পিছনে এই দেশের হাত খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এখান থেকে মদত জোগানো হয়েছে। এ বছরের এপ্রিল মাসেই পহলগামে নিরীহ মানুষদের খুনের পিছনে সেই দেশেরই হাত ছিল, দাবি জয়শঙ্করের।
অপারেশন সিঁদুরে যৌক্তিকতা দিতে বলেন, দেশের মানুষকে রক্ষা করতে দেশ নিজ অধিকার-ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। চক্রান্তকারীদের শাস্তি মিলেছে। আসলে এটা বিশ্বের কাছে আমাদের একটা বার্তা ছিল। যখন কোনও দেশ খোলাখুলি সন্ত্রাসবাদকে জাতীয় নীতি হিসেবে ঘোষণা করতে পারে, যখন জঙ্গিদের ডেরা শিল্প-কারখানার স্তরে পৌঁছে যায়, যখন জঙ্গিদের দেশের মানুষের সামনে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়, তখন সেই কাজের দলমতনির্বিশেষে নিন্দা করা উচিত বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, কুখ্যাত জঙ্গিদের নিষিদ্ধ করা ছাড়াও জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে রসদ পৌঁছানো বন্ধ করাও জরুরি। সন্ত্রাসবাদী জৈবচক্র ধ্বংস করতে লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে চলা উচিত। আজ যারা জঙ্গিদের মদত জোগাচ্ছে, তারা বুঝতেও পারছে না, এরাই একদিন ঘুরে তাদেরই ছোবল মারবে।