প্রতি বছর রাম নবমীর দিন এই দুই মূর্তির ‘বিয়ে’ দেওয়া হয় সম্পূর্ণ প্রথা মেনে। পুজো, অর্ঘ্য, আচার - সব মিলিয়ে একেবারে বাস্তব বিয়ের মতোই আয়োজন করা হয়।

মৃত ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান পালন করে চলেছেন তেলেঙ্গনার দম্পতি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোক কখনও কখনও এমন রূপ নেয়, যা সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে হয়ে ওঠে এক গভীর বিশ্বাস, এক অদ্ভুত অথচ আবেগে ভরা প্রথা (unique Indian traditions grief ritual)। তেলেঙ্গনার মহাবুবাবাদ জেলায় গত ২৩ বছর ধরে এমনই এক অনন্য রীতি পালন করে চলেছেন এক দম্পতি - নিজেদের মৃত ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান (Telangana dead son wedding tradition)।
লালু এবং সুক্কাম্মা - এই দম্পতির ছেলে রাম কোটির মৃত্যু হয় ২০০৩ সালে (Telangana Mahabubabad village story)। একটি মেয়েকে ভালবেসেছিলেন, তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন রাম। কিন্তু মেয়ের পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এই মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন রাম কুটি। তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই আত্মঘাতী হন তাঁর প্রেমিকাও। পরপর এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়ে দু’টি পরিবারই।
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও, লালু ও সুক্কাম্মা ঠিক করেন তাঁদের সন্তানের স্মৃতি এভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। তাকে নিজেদের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাঁরা বেছে নেন অন্য এক পথ।
সুক্কাম্মার কথায়, ছেলের মৃত্যুর পর তিনি স্বপ্নে রাম কোটিকে দেখেছিলেন। সেখানে ছেলে নাকি বাবা-মাকে অনুরোধ করেন, তাঁর জন্য একটি মন্দির তৈরি করতে এবং তাঁর বিয়ের আয়োজন করতে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজেদের বাড়ির ভিতর একটি ছোট্ট মন্দির তৈরি করেন এই দম্পতি। সেখানে পাশাপাশি বসানো হয় রাম কুটি এবং তাঁর প্রেমিকার মূর্তি।
সেই শুরু। তারপর থেকে প্রতি বছর রাম নবমীর দিন এই দুই মূর্তির ‘বিয়ে’ দেওয়া হয় সম্পূর্ণ প্রথা মেনে। পুজো, অর্ঘ্য, আচার - সব মিলিয়ে একেবারে বাস্তব বিয়ের মতোই আয়োজন করা হয়।
তেলেঙ্গনায় রাম নবমী মূলত ভগবান রাম ও সীতার ঐশ্বরিক বিবাহের স্মরণে উদযাপিত হয়। মন্দিরে মন্দিরে সেই দিব্য বিবাহের আয়োজন হয় অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। সেই প্রথা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে লালু ও সুক্কাম্মা তাঁদের ছেলের মূর্তিকে দেবরূপে মেনে নিয়ে একইভাবে এই বিয়ের অনুষ্ঠান করেন।
সময়ের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত শোকানুষ্ঠান আর শুধুই পারিবারিক পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আজ তা এক স্থানীয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গ্রামের মানুষ, আত্মীয়স্বজন এমনকি আশপাশের এলাকার লোকজনও ভিড় জমান। সবাই মিলে প্রার্থনায় অংশ নেন, সাক্ষী থাকেন এক অদ্ভুত অথচ হৃদয়স্পর্শী রীতির।