Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে মাতেন রঙ খেলায়! উত্তরপ্রদেশের এই দরগা সম্প্রীতির পোক্ত উদাহরণ

উৎসবের মূল বাণী - যে রব, সেই রাম। প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে সেটাই প্রতিফলিত হয়। হিন্দু ও মুসলিম ভক্তরা একে অপরকে রঙ মাখান, আলিঙ্গনে শুভেচ্ছা জানান। 

হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে মাতেন রঙ খেলায়! উত্তরপ্রদেশের এই দরগা সম্প্রীতির পোক্ত উদাহরণ

ছবি - এআই

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 4 March 2026 16:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বারাবাঙ্কির দেবা শরিফ (Uttar Pradesh Deva Sharif)। প্রতি বছর হোলির সময় এই দরগা (UP Dargah) যেন রঙে আর বিশ্বাসে ভরে ওঠা এক জীবন্ত ক্যানভাস। হাজি ওয়ারিস আলি শাহের মাজার চত্বরে তখন একসঙ্গে ধ্বনিত হয় ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘আল্লাহু আকবর’। আবিরি খেলায় (Holi 2026) মেতে নানা ধর্মের মানুষ শুধু উৎসবই পালন করেন না, বরং নির্দেশন রাখেন শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যর।

ঊনবিংশ শতকের সুফি সাধক হাজি ওয়ারিস আলি শাহের এই তীর্থক্ষেত্র হোলির (Holi Festival 2026) বিশেষ উদযাপনের জন্য সুপরিচিত। এখানে ধর্ম বা জাতপাতের বিভাজন গলে যায় রঙের আবিরে। গোলাপের পাপড়ি মিশে যায় আবিরে, বাতাসে ভেসে বেড়ায় সুফি কবিতার সুর। আধ্যাত্মিক আবহ আর বসন্তোৎসবের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

উৎসবের মূল বাণী - যে রব, সেই রাম। প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে সেটাই প্রতিফলিত হয়। হিন্দু ও মুসলিম ভক্তরা একে অপরকে রঙ মাখান, আলিঙ্গনে শুভেচ্ছা জানান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিখ দর্শনার্থীরাও আসেন। পরিচয়ের সীমানা ছাপিয়ে ভক্তির যে ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এখানে, সেটাই তাঁদের টানে।

ভারতের নানা প্রান্তে হোলির ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা গেলেও দেওয়া শরিফের সুফি হোলি আলাদা মর্যাদা পায় ভ্রাতৃত্বের বার্তায়। অংশগ্রহণকারীরা সচেতনভাবেই বিভেদ ভুলে মিলনের আনন্দে সামিল হন। ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে যখন জনপরিসরে নানা আলোচনা, তখন এই উৎসব তুলে ধরে সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অন্য ছবি।

স্থানীয়দের কথায়, সাধকের সমাধি নির্মাণ করেছিলেন রাজা পঞ্চম সিংহ নামে এক হিন্দু ভক্ত। সেই ঘটনাই এই তীর্থক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনাকে প্রতীকী রূপ দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই স্রোত আরও গভীর হয়েছে। বহু হিন্দু তীর্থযাত্রী ওয়ারিস আলি শাহকে শ্রীকৃষ্ণের রূপ বলে মানেন। আশপাশের এলাকায় বাড়ি ও গাড়িতে ‘ওয়ারিস সরকার’ লেখা দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, হোলির দিনে এখানে বহু সময় মুসলিমদের চেয়েও বেশি হিন্দু ভক্তের সমাগম হয়।

চার দশক ধরে এই উৎসবে আসছেন প্রতাপ জয়সওয়াল। তাঁর কথায়, “এক সময় বাড়িতেই থাকতাম। প্রথমবার দেবা শরিফে এসে বসন্তের রঙে এমন ভেসেছিলাম, যা আজও মুছে যায়নি। এখানে মিলনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।” মাহোবা থেকে প্রতি বছর আসেন মহম্মদ নাতীক। রমজান ও হোলি একসঙ্গে পড়লে তিনি বলেন, তা উৎসবের তাৎপর্য আরও বাড়ায়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা এই প্রথা আজও অটুট। মুখে-গায়ে লেগে থাকা রঙ যেমন সহজে মুছে যায় না, তেমনই স্মৃতিতে থেকে যায় মিলনের এই স্পর্শ - যা সব সম্প্রদায়কে বেঁধে রাখে একসূত্রে।


```