তেলঙ্গানার জান্নারামে সাইবার প্রতারণার চক্র ধরল পুলিশ। উদ্ধার ২৩০ সিম কার্ড, গ্রেপ্তার ৪। তদন্তে আন্তর্জাতিক যোগ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 August 2025 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার মানচেরিয়াল জেলার জান্নারামে বড়সড় সাইবার প্রতারণার চক্রের হদিস পেল তেলঙ্গানা সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরো (TGCSB)। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দপ্তর (DoT) এবং রামাগুণ্ডম কমিশনারেট পুলিশের যৌথ অভিযানে এই প্রতারণা সামনে আসে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি সিম বক্স ডিভাইস এবং ২৩০টির বেশি বেআইনি সিম কার্ড।
এই অভিযান শুরু হয় DoT-এর চকশু পোর্টালে একটি অভিযোগ আসার পর। অভিযোগকারী জানান, তাঁকে ফোন করে সরকারী আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানো হয়, বলা হয় তাঁর মোবাইল সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে - এটি একটি সাধারণ কৌশল যা প্রতারকরা ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর জন্য।
TGCSB-এর ডিরেক্টর শিখা গোয়েল এবং রামাগুণ্ডমের পুলিশ কমিশনার অম্বার কিশোর ঝার নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। IMEI নম্বর ও সিম বক্সের লিঙ্ক বিশ্লেষণের পর অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি হয়। কল ডিটেল রেকর্ড (CDR), স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতারকদের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
গত ২৯ জুলাই, মানচেরিয়ালের জান্নারামে একটি ভাড়াবাড়িতে হানা দেয় তেলেঙ্গানা সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরো। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় চারজনকে। ধৃতদের নাম ইয়ন্দ্রপু কামেশ (২৪), বাভু বাপাইয়া (৪৩), বাভু মাধুকর (৩২) এবং গোটলা রাজেশ্বর (৪০)।
উদ্ধার হয় ৫টি সিম বক্স ডিভাইস, ২৩০টি সিম কার্ড (Jio, Airtel, Vi), একটি HP ল্যাপটপ, একাধিক মোবাইল ফোন, ফাইবার নেট সংযোগের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইস।
তদন্তে উঠে আসে এই চক্রের মূল অভিযুক্ত ভিজাগের বাসিন্দা পলাভালসুলা সাই কৃষ্ণ ওরফে জ্যাক ওরফে রাজু, যিনি বর্তমানে কম্বোডিয়া থেকে চক্রটি চালাচ্ছিলেন। চন্ডীগড়ে বাপাইয়ার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর কম্বোডিয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেন বাপাইয়া। পরে ভারতে ফিরে জান্নারামে একটি ঘর ভাড়া নেন এবং সাই কৃষ্ণর নির্দেশে প্রতারণা শুরু হয়।
অপারেটর হিসাবে যোগ দেন ইয়ন্দ্রপু কামেশ, যিনি আর্থিক অনটনের কারণে মাসে ৭০ হাজার টাকা বেতনের লোভে কাজ নিতে রাজি হন। চক্রটি বিভিন্ন এলাকা থেকে সিম কার্ড সংগ্রহ করে, বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশের পার্বতীপুরম থেকে। সিম কার্ড জোগাড়ে সাহায্য করেন সিমহাদ্রি এবং বোনু জয়বর্ধন।
গ্রেফতার ওই ৪ জন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তদন্তকারীরা এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের আরও গভীর যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।