দিদির অসম্মান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। রোহিণীর পাশে দাঁড়িয়ে ‘ভাই’কে নাম না করে কড়া হুঁশিয়ারি তেজ প্রতাপের।

তেজ প্রতাপ ডানদিকে ও রোহিণী বাঁ দিকে
শেষ আপডেট: 16 November 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্ক আরও প্রবল হল লালু পরিবারের ভেতরে। মেয়ে রোহিণী আচার্যর বিস্ফোরক অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাশে দাঁড়ালেন বড় ভাই ও জনশক্তি জনতা দলের (জেজেডি) প্রধান তেজ প্রতাপ যাদব। জানালেন, নিজের উপর হওয়া অবিচার যতটা সহ্য করেছেন, দিদির অসম্মান বরদাস্ত করবেন না। রোহিণীর সঙ্গে যা হয়েছে, তা “অসহনীয়”, এই ভাষাতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
জেজেডি-র সরকারি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে তেজ প্রতাপ রোহিণীর ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, তাঁর উপর যা অন্যায় হয়েছে, তা চুপচাপ সহ্য করলেও বোনের অপমান তাঁকে হতবাক করেছে। রোহিণীর দাবি, তাঁকে জুতো দিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে, এই কথা শুনে তাঁর যন্ত্রণা 'আগুনে' পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য লালু-পুত্রের। নাম না করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, “জয়চাঁদদের” বরাবরই বিহারবাসী ক্ষমা করে না। তাঁর কথায়, “কিছু মুখ তেজস্বীর বিচারের ক্ষমতা ধোঁয়াশা করে দিয়েছে। এই অন্যায়ের ফল ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।”
‘বাবা, এক বার ইশারা করুন’
তিনি জনসমক্ষে লালু প্রসাদ যাদবের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। লিখেছেন, “বাবা, আপনি শুধু একবার ইশারা করুন… এক ইঙ্গিতেই বিহারের মানুষ এই জয়চাঁদদের কবর দেবে।” তেজ প্রতাপের দাবি, এটা কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়, পরিবারের সম্মান, এক মেয়ের মর্যাদা ও বিহারের আত্মসম্মানের লড়াই।
রোহিণীর বিস্ফোরক অভিযোগ
বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি-র ভরাডুবির পরদিনই রাজনীতিকে বিদায় জানান রোহিণী আচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্টে সকলের উদ্দেশে বার্তা দেন, তাঁকে অপমান, হেনস্থা করা হয়েছে, জুতো তোলা হয়েছে তাঁর দিকে। নিজের সম্মান আগে, সেখান থেকে কখনও সরেননি এবং সত্য বলার জন্য কখনও পিছপা হননি, তাই আপোসের প্রশ্নই ওঠে না।
নিজের বাবা-মা ও ভাইবোনদের ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি রোহিণীর। অভিযোগ, পরিবারেরই কয়েকজন তাঁর সম্মান, অধিকার ও ঘর কেড়ে নিয়েছে। বাবাকে কিডনি দেওয়াকে নিয়ে তাঁকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, রাজনৈতিক লাভের জন্য করেছেন বলে অভিযোগ শুনতে হয়েছে। এটাকে নিজের “সবচেয়ে বড় ভুল” বলে উল্লেখ করে অন্য মেয়েদের এই ভুল না করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোহিণী দাবি করেন, কোনও তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত নেননি। তেজস্বী যাদব, সাংসদ সঞ্জয় যাদব এবং রমিজ তাঁকে “বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছেন” এবং দলের ভরাডুবির দায় নিতে চাননি।
রাজনীতির জেরে ঘর ভাঙছে
রোহিণীর দাবিতে ভাঙন তীব্র লালু পরিবারে। এই বছরের শুরুতেই একাধিক বিতর্কে তেজ প্রতাপকে দল ও পরিবার থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তিনি জনশক্তি জনতা দল গঠন করলেও মহুয়ার আসনে তৃতীয় স্থানে সীমাবদ্ধ থাকেন।
আরজেডি-র ভরাডুবি
এই পারিবারিক কলহই ছায়া ফেলেছে নির্বাচনী ফলাফলে, আরজেডি ১৪০টি আসনে লড়াই করে মাত্র ২৫টিতে জিতেছে। অন্যদিকে এনডিএ-র ঝড়, বিজেপি পেয়েছে ৮৯ আসন, জেডিইউ ৮৫। ২৪৩ সদস্যের বিধানসভায় ২০০-র বেশি আসন পেয়েছে জোট।
বিহার বিজেপির সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, “এটা ওদের পারিবারিক বিষয়। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।” কাঁচা-কাঠ খবরের ভাষাতেই এই পারিবারিক ভাঙনের আঁচ রাজনীতিতে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।