লালু কন্যার অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এই বিতর্কিত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ রামিজ নৈমত খান। তাঁর অতীতের মামলার ইতিহাস যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনই পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 16 November 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনে RJD–র ভরাডুবির পর দিনই রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিয়ে পরিবারকেও বর্জনের ঘোষণা করেছিলেন রোহিণী আচার্য। লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বলেন RJD–র সাংসদ সঞ্জয় যাদব, যিনি আবার তেজস্বী ঘনিষ্ঠ। সেই সঙ্গে রোহিণী তুলে আনেন আর এক নাম- রামিজ নেমত খান (Rameez Nemat Khan)। যা আগে কখনও শোনা যায়নি মিডিয়া বা বিহারের রাজনীতিতে (Bihar politics)। অভিযোগ উঠতেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তেজস্বীর (Tejashwi Yadav) দীর্ঘদিনের বন্ধু রামিজ নেমত খান তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘কোর টিম’–এরই সদস্য। ক্রিকেট মাঠে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব গড়িয়েছে রাজনীতির অন্দরে। তেজস্বীর প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া টিম—সব কিছুই নজর রাখেন রামিজ।
কে এই রামিজ নেমত খান?
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রামিজের শ্বশুর প্রাক্তন সাংসদ রিজওয়ান জাহিরের (MP Rizwan Zaheer) পরিবারে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত। রিজওয়ান জাহির শ্ৰাবস্তী (আগের বলরামপুর) লোকসভা কেন্দ্র থেকে দু’বার সাংসদ হয়েছেন, কখনও সমাজবাদী পার্টির, কখনও বহুজন সমাজ পার্টির টিকিটে। একবার লড়েছেন নির্দল হিসেবেও। একসময় ছিলেন উত্তরপ্রদেশের কনিষ্ঠতম বিধায়ক।
রামিজের স্ত্রী জেবা রিজওয়ানও ( Zeba Rizwan) দু’বার নির্বাচন লড়েছেন, তুলসীপুর কেন্দ্রে, একবার কংগ্রেসের টিকিটে, একবার নির্দল হয়ে জেলবন্দি অবস্থায়, কিন্তু দু’বারই জিততে পারেননি।
বিতর্ক আর মামলা ঘিরে অতীত
২০২১ সালে তুলসীপুর জেলা পরিষদ ভোট চলাকালীন কংগ্রেস নেতা দীবঙ্কর সিংহের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে রামিজের বিরুদ্ধে। তারপর ২০২২ সালে রামিজ, তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর রিজওয়ান জাহির-সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় তুলসীপুর নগরপঞ্চায়েতের প্রাক্তন সভাপতি ফিরোজ পাপ্পু খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা চলছে, বলরামপুরে ৯টি, কৌশাম্বীতে ২টি। একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন, কিছু এখনও বিচারাধীন।
২০২৩ সালে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে, প্রতাপগড়ের ঠিকাদার শাকিল খানের হত্যা। কুশীনগরের রেললাইনের ধারে উদ্ধার হয় দেহ। সেই মামলাতেও রামিজকে অভিযুক্ত করেন নিহতের স্ত্রী।
একই বছরে উত্তরপ্রদেশ সরকার রামিজের নামে কেনা প্রায় ৪.৭৫ কোটি টাকার জমি বাজেয়াপ্ত করে। জুলাই ২০২৪–এ গ্যাংস্টার অ্যাক্টে গ্রেফতার হন ফের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সেখানেও পান জামিন।
এরপর রামিজ ও তাঁর স্ত্রী সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, তাঁদের গ্রেফতার বা নতুন মামলা শুরু করার আগে স্থানীয় আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক। তারপর থেকেই একে একে বহু মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন দম্পতি। নতুন কোনও মামলাও হয়নি।
ব্যক্তিগত জীবন ও শুরু
১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে জন্ম। বাবা নেমাতুল্লাহ খান জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অধ্যাপক। দিল্লি পাবলিক স্কুল, মতিউর রোড থেকে স্কুলজীবন, পরে জামিয়া থেকে BA ও MBA। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার, দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। ২০০৮–০৯ সালে ছিলেন ঝাড়খণ্ড আন্ডার–২২ দলের অধিনায়ক। তখনই রামিজ ঘনিষ্ঠ হন তেজস্বীর।
২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন RJD–তে। তারপর থেকেই তেজস্বীর নিত্যসঙ্গী—রাজনৈতিক কৌশল, প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়া—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।
রোহিণীর অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এই বিতর্কিত কিন্তু তেজস্বীর অন্দরমহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ রামিজ নেমত খান। তাঁর অতীতের মামলার ইতিহাস যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনই তেজস্বীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বকেও আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।