বড় ছেলে তেজপ্রতাপের (Tej Pratap Singh) বহিষ্কারের পর এবার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছেন মেয়ে রোহিণী আচার্য (Rohini Acharya News)। শুধু রাজনীতি থেকেই নয়— রীতিমতো জানিয়ে দিইয়েছেন, পরিবারের সঙ্গেও সম্পর্কচ্ছেদ করছেন তিনি।

লালুপ্রসাদ ও তাঁর মেয়ে রোহিণী
শেষ আপডেট: 15 November 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার ভোটে ভরাডুবির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লালুপ্রসাদ যাদবের (Lalu Prasad Yadav) পরিবারে নতুন নাটক শুরু হয়েছে। বড় ছেলে তেজপ্রতাপের (Tej Pratap Singh) বহিষ্কারের পর এবার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছেন মেয়ে রোহিণী আচার্য (Rohini Acharya News)। শুধু রাজনীতি থেকেই নয়— রীতিমতো জানিয়ে দিইয়েছেন, পরিবারের সঙ্গেও সম্পর্কচ্ছেদ করছেন তিনি।
এই রোহিণীর আচার্যই বিয়ের পর সিঙ্গাপুরে গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলাচ্ছিলেন। মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট রোহিণীই বাবা লালুপ্রসাদকে কিডনি দান করে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। গতবছর সরন লোকসভা আসনে তিনি আরজেডির টিকিটে লড়াই করেন। কিন্তু, বিজেপির রাজীবপ্রতাপ রুডির কাছে হেরে যান। শনিবার এক পোস্টে লালুকন্যা লেখেন, “আমি রাজনীতি ছাড়ছি। পরিবারও ছাড়ছি।”
আরজেডির আসন সংখ্যা ৭৫ থেকে নেমে ২৫-এ ঠেকতেই এই বিস্ফোরক ঘোষণা রোহিণীর। স্বাভাবিকভাবেই শোচনীয় ফলাফলের পর এই পারিবারিক ভাঙন আরও বিব্রত করেছে আরজেডি শিবিরকে।
রহস্য বাড়িয়ে রোহিণীর দাবি— তাঁর এই সিদ্ধান্ত “সঞ্জয় যাদব আর রমিজের নির্দেশে” নেওয়া। সঞ্জয় আরজেডির রাজ্যসভার সাংসদ ও তেজস্বীর ডান হাত বলে পরিচিত। রমিজ তাঁর বহু পুরনো বন্ধু। কিন্তু তাঁরা কী ‘করতে বলেছিলেন’, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি রোহিণী। দুই তরফ থেকেই এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। ফলে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে তেজস্বীর শক্তি-বৃত্তের উপর।
প্রথমে তেজপ্রতাপ, এবার রোহিণী— পরিবারিক অস্থিরতার জেরেই কি বারবার ভাঙন?
কয়েক মাস আগেই অত্যন্ত নাটকীয় অবস্থায় পরিবার ও দল— দুটো থেকেই বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তেজপ্রতাপ যাদব।
সম্পর্ক সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্ট থেকে আবারও সামনে এসেছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক। পরে তিনি নতুন দল গড়ে নির্বাচনও লড়েন, তবে ফলাফল হয় হতাশাজনক। রাজনৈতিক মহলের মতে, তেজপ্রতাপের অপমানের ঘটনাও রোহিণীর ভিতরে ক্ষোভ তৈরি করেছিল।
ভরাডুবির পর আরজেডির ভিতরে চাপা ক্ষোভ?
এবারের ভোটে ১৪৩টিরও বেশি আসনে লড়ে আরজেডির হাতে আসে মাত্র ২৫। বিপরীতে এনডিএ ঝুলিতে ২০২ আসন। বিজেপি ৮৯, জেডিইউ ৮৫ এবং ছোট দলগুলিও ভাল ফল করেছে। গোটা জোট (মহাগঠবন্ধন) মিলে মাত্র ৩৫ আসন।
এই বিশাল পরাজয়ের পর দল ও পরিবারের ভিতরে দোষারোপের পালা যে শুরু হয়েছে, রোহিণীর হঠাৎ ঘোষণায় তার ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট।
নির্বাচনের আগেই রোহিণী সমস্ত রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের ‘আনফলো’ করে দেন। অভিযোগ জানান, তাঁর নামে মিথ্যা প্রচার চলছে। কিডনি দানের প্রসঙ্গেও তাঁকে নানাভাবে আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটে তিনি তেজস্বীর পক্ষেই প্রচার করেন, জন্মদিনে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তাই শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় সিদ্ধান্তে অনেকেই বিস্মিত।
তেজপ্রতাপের বহিষ্কার এবং রোহিণীর ‘ঘর ছাড়া’— দুই ঘটনায় স্পষ্ট, লালুর ঘরোয়া কলহ এখন আর ঘরোয়া নেই। আরজেডির সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফলের সঙ্গে পরিবারের এই প্রকাশ্য ভাঙন দলকে আরও বিপাকে ফেলেছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।