
শেষ আপডেট: 1 February 2024 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে আগামী মাসে। তার আগে বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেটে জুলাই পর্যন্ত সরকারের আয় ও ব্যায়ের একটা হিসাব পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। অন্তর্বর্তী বাজেটে তার অতিরিক্ত নতুন কিছু করার পরিসর থাকে না। কারণ, আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য একটা ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করার অধিকার কেবল থাকে বিদায়ী সরকারের।
নির্মলা এদিন সেটাই করেছেন। কপিবুক ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেছেন। এমনকী প্রত্যক্ষ করবিধি তথা ব্যক্তিগত আয়করের ক্ষেত্রেও কোনও পরিবর্তন করেননি। শুধু জানিয়েছেন, কর ব্যবস্থা ও রিফান্ডের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুগম করা হবে।
এদিনের বক্তৃতায় মূলত বৃহত্তর এক ছবি আঁকতে চেয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অতিশয় মনোযোগ দিয়ে, গত দশ বছরে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘বিপুল কর্মকাণ্ড’, অর্থনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করেছেন। এবং জানিয়েছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে এই দেশকে বিকশিত ভারতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর। সেজন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট ভাবনা রয়েছে। তাঁদের সবকা সাথ-সবকা বিকাশের ভাবনার সঙ্গে সবার প্রয়াস জুড়ে গেলে, ভারত জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ হতে পারে আরও ২৩ বছরের মধ্যে।
নির্মলার কথায়, ২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত দেশে যে সরকার ছিল, তাদের কাছে সামাজিক বিচার ছিল একটি রাজনৈতিক স্লোগান মাত্র। কেবল পাইয়ে দেওয়াটা ছিল তাদের কৌশল। কিন্তু বর্তমান সরকারের ভাবনা ছিল ভিন্নতর। এই সরকার প্রকৃত অর্থে সামাজিক ন্যায় কায়েম করার চেষ্টা করেছে। ২৫ কোটি মানুষকে বহুমুখী দারিদ্র জাল থেকে মুক্তি দিতে পেরেছে। ধর্মনিরপেক্ষতা দেখিয়েছে কাজের মধ্যে দিয়ে। প্রশাসনিক দুর্নীতি কড়া হাতে দমন করেছে। ভাই ভাতিজাবাদ তথা স্বজনপোষণ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে সুসংহত ভাবে সামাজিক সংস্কার করেছে।
এই সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গেই মোদী জমানায় বিবিধ প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন নির্মলা। তাঁর কথায়, দেশের ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্য রেশন সরবরাহ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান যোজনার আওতায় প্রতি বছর ১১.৮ কোটি কৃষককে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। ৪ কোটি কৃষককে কৃষি ঋণ দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক ন্যাশনাল এগ্রি মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে ১৬০০ কৃষি মান্ডিতে লেনদেন সহজ করা হয়েছে। তার মাধ্যমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া স্কিল ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার আইটিআই তৈরি করা হয়েছে।
এদিনের বাজেট ঘোষণায় জিডিপি তথা মোট ঘরোয়া উৎপাদনের নতুন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আমাদের কাছে জিডিপি হল গভর্নেন্স-ডেভেলপমেন্ট এবং পারফরমেন্স। সরকার সমাবেশি দর্শন নিয়ে চলেছে। তাই সমাজের সব অংশের ক্ষমতায়ণের চেষ্টা করেছে। পিএম মুদ্রা যোজনায় ৩০ লক্ষ মহিলাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। লাখপতি দিদি যোজনার আওতায় ৮৫ লক্ষ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সাহায্য করা হয়েছে। তার ফলে উপকার পেয়েছেন ৯ কোটি মহিলা।
নির্মলা এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন যে সরকার সমাজের চারটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। তারা হল গরিব, মহিলা, যুব সম্প্রদায় এবং কৃষক। আগামী দিনে তাদের কথা ভেবেই কাজ করবে সরকার। সেই সঙ্গে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ টানা, সবার জন্য সুযোগ তৈরি করা, নিয়মমাফিক সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়নই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। যে স্বপ্ন সবার বিকাশের মধ্যে দিয়ে দেশকে বিকশিত করবে।