নেপালের ইতিহাসে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মোদী ও কার্কি
শেষ আপডেট: 13 September 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সুশীলা কার্কি। জেন জি-দের পছন্দে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। তাঁকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এক্স-এ হিন্দি ও নেপালি ভাষায় তিনি লিখেছেন, ‘নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় সুশীলা কার্কিকে আন্তরিক অভিনন্দন। নেপালের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’ ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও নেপালে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলেই আশা করছে দিল্লি।
প্রধানমন্ত্রী পদে কার্কির অভিষেকের দিনই নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল সংসদ ভেঙে দেন এবং আগামী ৫ মার্চ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেন। দীর্ঘ সহিংসতার জেরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজন দেখা দেয়। রাষ্ট্রপতি, সেনা প্রধান, রাজনৈতিক নেতারা এবং ‘জেন জি’ নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকারীদের সম্মতিতেই নিরপেক্ষ মুখ হিসেবে কার্কির নাম প্রস্তাবিত হয়।
৭৩ বছরের কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। এ ছাড়া তাঁর ভারতের সঙ্গেও বিশেষ যোগ রয়েছে। ১৯৭৫ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন এবং প্রথম স্থানাধিকারী ছিলেন।
আপাতত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কার্কির সামনে রয়েছে বড় দায়িত্ব, অশান্ত দেশে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো, সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানির তদন্ত করা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা। নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিকও। আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। সংসদ ভবন-সহ একাধিক সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ রয়েছে।
এই ‘জেন জি’ নেতৃত্বাধীন ছাত্র-যুব আন্দোলন মূলত শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করার প্রতিবাদে। পরে তাতে যোগ হয় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ। সরকারের পতনের পর সেনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিলেও এখনও কাঠমান্ডু উপত্যকায় জারি রয়েছে বিধিনিষেধ।
এদিকে, অশান্তির জেরে নেপালের হোটেল শিল্পে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নেপালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি ক্ষতি হয়েছে, প্রায় দুই ডজন হোটেল ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের কবলে পড়েছে। শুধু কাঠমান্ডুর হিলটন হোটেলেই ক্ষতির পরিমাণ ৮ বিলিয়নের বেশি।
কার্কির অভিষেকের পর অনেকের আশা, দীর্ঘ অশান্তির পর অবশেষে নেপাল স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। ভারতও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের শান্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।