
শেষ আপডেট: 22 January 2024 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গর্ভগৃহে সূর্যের প্রথম কিরণ ঢুকে রামলালার মুখে পড়বে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে রামমন্দিরে ‘সূর্য তিলক’ বসাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রতি বছর রামনবমীর দুপুরে সূর্যের আলোর একটি রশ্মি সরাসরি রামলালার মূর্তির কপালে এসে পড়বে।
রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বিশেষ এক ধরনের লেন্স ও আয়না তৈরি করেছেন যা মন্দিরের কাঠামোর সঙ্গে জোড়া থাকবে। সূর্যরশ্মির মন্দিরর গায়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আয়না ও লেন্সে বারবার প্রতিফলিত হয়ে গর্ভগৃহে ঢুকে রামলালার মূর্তির কপালে পড়বে। সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণের কথা মাথায় রেখেই সেই লেন্স ও আয়নাকে বিশেষ উপায়ে স্থাপন করা হচ্ছে মন্দিরে যাতে সূর্যের অবস্থান ঋতুবদলের সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে বদলাক না কেন, সূর্যরশ্মি ঠিক গর্ভগৃহে ঢুকে রামলালার মূর্তিতে পড়বেই।
রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ড. প্রদীপ কুমার রমনচারলা জানিয়েছেন, সূর্য তিলক কোথায় ও কীভাবে লাগানো হচ্ছে তা এখনই বোঝা যাবে না। কারণ সম্পূর্ণ রামমন্দিরটি এখনও তৈরি করা হয়নি। নীচের তলার কাঠামো তৈরি হয়েছে। গর্ভগৃহে রামলালার মূর্তির স্থাপনা হয়েছে। কিন্তু এখনও মন্দির নির্মাণকাজ অনেকটাই বাকি। সম্পূর্ণ রামমন্দিরটি তৈরি হয়ে গেলে তখন সূর্য তিলকের অবস্থান বোঝা যাবে। তিন তলা মন্দিরের গায়ে সূর্যের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সূর্য তিলক যন্ত্রে প্রতিফলিত হয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকবে।
তবে, সূর্য তিলক প্রক্রিয়াটি যাতে ঠিকভাবে হয়, তা নিশ্চিত করাটা বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, হিন্দু ধর্মে তিথি নির্ধারণ করা হয় চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। আর রামনবমীর দিনক্ষণও ঠিক হয় সেভাবেই। কিন্তু সূর্য প্রতিবছর এক অবস্থানে থাকে না। উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের অবস্থানও বদলায়। তাই সূর্য তিলক কীভাবে কাজ করবে সেটা এই সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী স্থির করেন বিজ্ঞানীরা। চন্দ্র ক্যালেন্ডার ও সূর্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ড. এসকে পানিগ্রাহী বলছেন, লেন্স ও আয়নার সঙ্গে গিয়ারবক্স বসানো হচ্ছে মন্দিরে। ১৯টি গিয়ার স্থাপন করা হচ্ছে। এই গিয়ারগুলির সাহায্যে, প্রতি বছর রাম নবমীর দিন সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাবে লেন্স এবং আয়নাগুলির অবস্থানও। পুরো মন্দিরটি তৈরি হয়ে গেলে, প্রতি রামনবমীর দিন বেলা ১২টায় ৬ মিনিটের জন্য সূর্যের একটি রশ্মি রামলালার কপালে এসে পড়বে। মন্দিরের তৃতীয় তল থেকে সূর্যের রশ্মি এই গিয়ারবক্স হয়ে বিভিন্ন আয়না এবং লেন্সের মধ্য দিয়ে গর্ভগৃহে ঢুকবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্য তিলক যন্ত্রটি চালনা করার জন্য ইলেকট্রিসিটি ব্যবহার করা হয়নি। বরং সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারপার্সন, নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, পিতল দিয়ে তৈরি হয়েছে গিয়ারবক্স। পেরিস্কোপের মতো দেখতে যন্ত্রটির নকশা ও প্রযুক্তি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের। প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থা অপটিকা। তারাই লেন্স, গিয়ার, আয়না তৈরি করেছে। আর পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেছে রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। মন্দিরের কাঠামোর সঙ্গে সূর্য তিলক যন্ত্র কীভাবে স্থাপন করা হবে তার পুরো নকশাটাই করেছেন রুরকির বিজ্ঞানীরা।