শুধুমাত্র দিল্লিতেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও শত শত কুকুরের কামড়ের ঘটনা সামনে এসেছে, যার অনেকগুলিই রেবিসে আক্রান্ত।

শেষ আপডেট: 28 July 2025 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানীতে ছ’বছরের এক শিশুর কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর পর দেশের শীর্ষ আদালত নিজে থেকেই (স্বতঃপ্রণোদিতভাবে) হস্তক্ষেপ করল। দায়ের হল সুয়ো মোটো মামলা। সোমবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখে বিষয়টিকে “ভীষণ উদ্বেগজনক ও বিচলিত করার মতো” বলে চিহ্নিত করে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘City hounded by strays and kids pay price’ শিরোনামে জানানো হয়, দিল্লির পূঠ কালান এলাকার বাসিন্দা ছ’বছরের ছবি শর্মাকে ৩০ জুন একটি রেবিস-আক্রান্ত কুকুরের কামড়ায়। যদিও শুরুতেই চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২৬ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত চিন্তাজনক। শুধুমাত্র দিল্লিতেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও শত শত কুকুরের কামড়ের ঘটনা সামনে এসেছে, যার অনেকগুলিই রেবিসে আক্রান্ত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।”
বিচারপতি পার্দিওয়ালা বলেন, “আমরা বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নিচ্ছি। আদালতের রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন এটি একটি স্বতঃপ্রণোদিত রিট পিটিশন হিসেবে গণ্য করে এবং সংবাদ প্রতিবেদনটি-সহ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ভূষণ আর গভাইয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয় প্রয়োজনীয় নির্দেশের জন্য।”
এই হস্তক্ষেপের আগে, ১৫ জুলাই বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ একটি মামলায় কুকুর খাওয়ানো সংক্রান্ত প্রশ্নে মন্তব্য করে বলেছিলেন, “যদি খাওয়াতেই হয়, তা হলে তাঁরা যেন নিজের বাড়ির মধ্যে করেন, রাস্তা বা পার্কে নয়।”
বিচারপতিদের কথায়, “আপনি কি সকালে সাইকেল চালাতে যান? একদিন চেষ্টা করুন, দেখবেন কী হয়।” তাঁরা জানান, সকালের দিকটায় রাস্তাঘাটে সাইকেল-বাইক আরোহী এবং হাঁটতে বেরনো মানুষদের জন্য অবলা পশুদের আক্রমণের ভয় প্রায় নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে উঠেছে।
এই মামলায় আবেদনকারী রীমা শাহ ২০২৫ সালের ৩ মার্চের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করেন। ওই রায়ে কমপ্যাশনেট ফিডিং (compassionate feeding)-এর অনুমতি দেওয়া হলেও জনসুরক্ষার বিষয়টি সামনে রাখা হয়েছিল। আবেদনকারী চেয়েছিলেন নয়ডায় নির্ধারিত কিছু জায়গা তৈরি হোক।
২০২১ সালের দিল্লি হাইকোর্ট একটি রায়ে জানায়, পশু কল্যাণ বোর্ড, RWA এবং স্থানীয় পুরসভার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট feeding spot নির্ধারিত হবে, যাতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ না হয়। সেইসঙ্গে পশুপ্রেমীদের হয়রানি রোধে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে Animal Birth Control (ABC) Rules, 2023। এই নিয়ম অনুযায়ী, কুকুর খাওয়ানোর দায়িত্ব আরডব্লিউএ ও পুরসভাগুলির। তবে মানবিকতার পাশাপাশি জনসুরক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট এই নিয়মকে সমর্থন করেছে, বাস্তবে তার কার্যকরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই—বিশেষ করে পুরসভা ও বাসিন্দাদের মধ্যে।
শেষমেশ বিচারপতি নাথ ও মেহতার বেঞ্চ বলেন, “এখন পশুদের জন্য জায়গা আছে, কিন্তু মানুষের নেই! তবে কি গরু আর কুকুরকে খাওয়ানোর জন্য শহরের প্রতিটি রাস্তায় আলাদা লেন খুলে দিতে হবে?”