Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

১৮ নয়, ১৬ বছর থেকেই যৌন সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়া হোক, সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা আইনজীবীর

ইন্দিরা জয়সিং দাবি করেছেন, বর্তমান আইন কিশোরদের রোমান্টিক ও যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে দেখায়। এতে তাদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

১৮ নয়, ১৬ বছর থেকেই যৌন সম্পর্কের স্বীকৃতি দেওয়া হোক, সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা আইনজীবীর

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 24 July 2025 18:59

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে সম্মতির আইনগত বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার পক্ষে সওয়াল করলেন অ্যামিকাস কিউরি ও বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তিনি ‘নিপুণ সাক্সেনা বনাম ভারত সরকার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা করছেন এবং তাঁর লিখিত মতপত্রে তিনি বলেছেন, ২০১২ সালের পকসো (POCSO) আইন ও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌথ সম্মতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা সংবিধান বিরোধী।

ইন্দিরা জয়সিং দাবি করেছেন, বর্তমান আইন কিশোরদের পারস্পরিক রোমান্টিক ও যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে দেখায় এবং এতে তাদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, "১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের পরিণতি, সচেতনতা ও সম্মতির ক্ষমতা উপেক্ষা করে তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে 'অবমাননাকর যৌন নিপীড়ন'-এর সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যুক্তিসঙ্গত নয়।"

জয়সিং জানান, গত ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে সম্মতির বয়স ১৬-তেই স্থির ছিল, কিন্তু ২০১৩ সালে অপরাধ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমে হঠাৎই তা ১৮ করা হয়—যা কোনওরকম বিতর্ক ছাড়া এবং জাস্টিস ভার্মা কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করেই করা হয়েছে।

তিনি আরও যুক্তি দেন, বর্তমান সময়ে কিশোর-কিশোরীরা আগেভাগেই যৌবনে পৌঁছে যাচ্ছে এবং নিজেদের পছন্দমতো সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-সহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৬–১৮ বছর বয়সি কিশোরদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক নতুন কিছু নয়।

তিনি জানান, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬–১৮ বছর বয়সিদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলার সংখ্যা ১৮০ শতাংশ বেড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ করেছেন মেয়েদের বাবা-মা, মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, বিশেষ করে যখন সম্পর্কটি আন্তঃধর্ম বা অন্তঃবর্ণ হয়ে থাকে।

ইন্দিরা জয়সিংয়ের প্রস্তাব: পকসো আইনে ‘ক্লোজ-ইন-এজ’ (close-in-age) ব্যতিক্রম হিসেবে যুক্ত হোক, যাতে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের সম্মতিতে স্থাপিত সম্পর্ককে আর অপরাধ না ধরা হয়।

তিনি বলেন, "কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিপূর্ণ যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নির্বিচার, অসাংবিধানিক এবং শিশুদের সর্বোচ্চ স্বার্থের বিরুদ্ধে।"

জয়সিং আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারতের বিভিন্ন মামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন, যেমন ব্রিটেনের গিলিক কমপিটেন্স (Gillick competence) রায় এবং ভারতের পুট্টুস্বামী (Puttaswamy) মামলার বিচার - যেখানে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের অধিকার হল ব্যক্তিগত গোপনীয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং তা কিশোরদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, বিভিন্ন উচ্চ আদালত যেমন বম্বে, মাদ্রাজ এবং মেঘালয় হাইকোর্ট - ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে মত দিয়েছেন যে কিশোরদের সম্মতিপূর্ণ যৌন সম্পর্ককে পকসো আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সবশেষে, তিনি আবেদন জানান, সুপ্রিম কোর্ট যেন ঘোষণা করে যে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্মতিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক শিশু নির্যাতন নয় এবং তা যেন পকসো ও ধর্ষণ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়।

তিনি পকসো আইনের ১৯ নম্বর ধারায় থাকা বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং ব্যবস্থারও পুনর্বিবেচনার কোথা জানান, যা কিশোরদের নিরাপদ চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পথ আটকে দেয়।

সবশেষে ইন্দিরা জয়সিংয়ের কথা, "যৌন ইচ্ছেয় নিজের অধিকার বা স্বাধীনতা মানব মর্যাদারই অংশ। নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে কিশোরদের বঞ্চিত করা সংবিধানের ১৪, ১৫, ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।"


```