মামলাকারী পাল্টা দাবি করেন, তাঁর স্বামী ধনী। তিনিই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছেন। এমনকি ওই মহিলা স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বলেও দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টে।

সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 22 July 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৮ মাসের দাম্পত্য জীবন। বনিবনার অভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বইয়ের দম্পতি। এরপরই মোটা টাকা খোরপোশ চান স্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলাও করেন তিনি। মহিলার এই দাবি শুনে অবাক প্রধান বিচারপিতির ডিভিশন বেঞ্চ। 'আপনি তো শিক্ষিত, নিজে রোজগার করুন', পাল্টা বলল শীর্ষ আদালত।
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি বি আর গভাইয়ের বেঞ্চ মামলাকারীর কাছে জানতে চান, আপনি কী চান? উত্তরে ওই মহিলা বলেম, ১২ কোটি টাকা, মুম্বইয়ে একটি ফ্ল্যাট এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি। একথা শুনে প্রধান বিচারপতি সরাসরি মন্তব্য করেন, 'আপনি তো অত্যন্ত শিক্ষিতা। আপনি নিজেই রোজগার করুন।’
আদালতের পেশ করা নথির ভিত্তিতে মামলাকারীর পরিচয় জেনে সুপ্রিম কোর্ট বলে, 'আপনি একজন আইটি পেশাদার। এমবিএ করেছেন। বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদে আপনার মতো শিক্ষিতদের খুব চাহিদা আছে। আপনি নিজে কাজ করেন না কেন?' বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, 'আপনার এই বিবাহিত জীবন ছিল মাত্র ১৮ মাস। আর আপনি তার জন্য ১২ কোটি টাকা ও বিএমডব্লিউ চাইছেন? অর্থাৎ মাসে প্রায় এক কোটি টাকা!’
মামলাকারী পাল্টা দাবি করেন, তাঁর স্বামী ধনী। তিনিই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছেন। এমনকি ওই মহিলা স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত বলেও দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টে।
এই মামলায় মহিলার স্বামীর হয়ে সওয়াল করছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী মাধবী দিওয়ান। তিনি আদালতে বলেন, 'ওঁরও তো কাজ করা উচিত। সবকিছু এভাবে তো দাবি করা যায় না।' শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি মামলাকারীকে মনে করিয়ে দেন, তিনি প্রাক্তন স্বামীর বাবার সম্পত্তির উপর কোনও দাবি করতে পারেন না।
মহিলা যেহেতু নিজেই নিজের হয়ে সওয়াল করছিলেন, তাই তিনি বিচারপতিদের বলেন, 'আমার স্বামী সিটিব্যাঙ্কের ম্যানেজার ছিলেন। এখন দুটো ব্যবসাও চালান। আমি তো একটা সন্তান চাইছিলাম, কিন্তু উনি সেটা দিতে চাননি। উল্টে আমাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছেন।' এরপর আদালত স্বামীর আয়কর বিবরণ খতিয়ে দেখে। আইনজীবীরা জানান, স্বামী চাকরি ছাড়ার পরে তাঁর আয় অনেকটাই কমেছে।
শেষে প্রধান বিচারপতি মামলাকারীকে বলেন, 'আপনি ওই ফ্ল্যাট নিয়ে সন্তুষ্ট হন এবং একটি ভাল চাকরি খুঁজে নিন। নইলে ওই ৪ কোটি টাকা নিয়ে পুনে, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু- যে কোনও এক আইটি সেন্টারে গিয়ে একটা ভাল চাকরি নিন।' এই মামলার রায় এখনও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।