ইন্ডিয়াবুলস হাউসিং ফাইনান্সের বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের মামলায় সুপ্রিম কোর্টে অনুপস্থিত থাকায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই-কে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুলাই।

সিবিআইকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিয়াবুলস হাউসিং ফাইনান্সের বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপের অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় অনুপস্থিত থাকায় কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল দেশের শীর্ষ আদালত। আগেই নোটিস পাঠানো হলেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই আদালতে হাজির হয়নি, যা দেখে বিস্মিত ও বিরক্ত হয় বিচারপতিদের বেঞ্চ।
'নোটিস পাঠানোর পরেও যদি না আসে, তবে কোর্টে হাজির হবে না— এ কথা কীভাবে বলতে পারে ওরা?' এদিন রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করে আদালত।
জানা গেছে, দিল্লি হাইকোর্ট যে মামলাটিতে আদালত-নিয়ন্ত্রিত তদন্তের আবেদন খারিজ করেছিল, সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। মামলাটির মূল বিষয় হল, ইন্ডিয়াবুলস হাউসিং ফাইনান্স লিমিটেড (বর্তমানে ‘সম্মান ক্যাপিটাল লিমিটেড’ নামে পরিচিত)–এর প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের টাকা তছরুপের অভিযোগ।
আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ আদালতকে জানান, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) জানিয়েছে, যেহেতু কোনও পূর্ব অপরাধের ভিত্তিতে তারা মামলা করতে পারছে না, তাই তদন্তে নামতে পারছে না। সে কারণে সোজাসুজি সিবিআই-কে মামলা রুজুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই মামলায় বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, এই ধরনের অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্বের দাবি রাখে। এমন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির উচিত ছিল বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া।
বেঞ্চ বলে, 'অভিযোগ কিন্তু গুরুতর। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর উচিত ছিল তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া। আর যেহেতু নোটিস পাঠানো হয়েছিল, তাহলে সিবিআই কোর্টে আসেনি কেন? সাহসটুকুও নেই?'
এই পর্যায়ে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল আদালতের কাছে এক সপ্তাহ সময় চান, যাতে সিবিআইয়ের কাছ থেকে নির্দেশ নিতে পারেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও সাফ জানায়, সিবিআইয়ের কাজ করতে কোনও ‘ফরমাল অভিযোগকারী’র দরকার নেই। তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ থাকলেই যথেষ্ট। বেঞ্চ বলে, 'আর কী তথ্য দরকার? ওদের তো সমস্ত রেকর্ডস্ আগে থেকেই আছে।'
ইন্ডিয়াবুলস সংস্থার পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুকুল রোহতগি পাল্টা সওয়ালে বলেন, ইন্ডিয়াবুলস বহু বছর ধরে কাজ করছে এবং কখনও তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি ৩০ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে।