শুনানির সময়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “অনেকে মাংস খাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেন, আবার নিজেরাই দাবি করেন তাঁরা প্রাণীপ্রেমী।”

ছবি: AI
শেষ আপডেট: 14 August 2025 12:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি-এনসিআর এলাকায় পথকুকুর (stray dogs) ধরপাকড় ও পুনর্বাসন নিয়ে চলতি বিতর্কে ফের সরব হল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুনানির সময়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “অনেকে মাংস খাওয়ার ভিডিও পোস্ট করেন, আবার নিজেরাই দাবি করেন তাঁরা প্রাণীপ্রেমী।”
মেহতা জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৭ লক্ষ কুকুরে কামড়ানোর (dog biting) ঘটনা ঘটছে, অর্থাৎ গড়ে দিনে ১০ হাজার। শুধু ২০২৪ সালেই জলাতঙ্কে মারা গিয়েছেন অন্তত ৩০৫ জন, যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। তাঁর দাবি, “এখানে একদিকে রয়েছে কর্কশ কণ্ঠের সংখ্যালঘুরা, আর অন্যদিকে নীরবে ভোগান্তি সহ্য করছে যে সব মানুষ তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ।”
গত ১১অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ৮ সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি-এনসিআরের সমস্ত পথকুকুর ধরে শেল্টারে রাখতে হবে এবং আর রাস্তায় ছাড়া যাবে না। রায় ঘোষণার পর প্রবল সমালোচনার জেরে মামলাটি প্রধান বিচারপতি নতুন তিন বিচারপতির বেঞ্চে স্থানান্তর করেন।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। এদিন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরে জানান, দিল্লি-এনসিআরে পর্যাপ্ত কুকুরশেল্টারই নেই, ফলে রায় কার্যকর করা অসম্ভব। তাঁর প্রশ্ন, “পথকুকুর ধরার পর কোথায় রাখা হবে?”
আদালত আপাতত রায়ে স্থগিতাদেশ না দিলেও, বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে প্রয়োজন পড়লে জরুরি নির্দেশ বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে আদালত সতর্কবার্তা দিয়েছে—পথকুকুর ধরপাকড়ে কেউ বাধা দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মামলায় মানবিক দিক ও জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন আদালতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।