আদালত দিল্লি সরকার, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি, এনডিএমসি এবং নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়, দ্রুত কুকুরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বা পাউন্ড তৈরি করতে হবে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 August 2025 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি-এনসিআরজুড়ে পথকুকুর ধরপাকড় ও সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন আগের বেঞ্চের বিচারপতিরা। বুধবার শীর্ষ আদালত জানায়, এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে নতুনভাবে গঠিত একটি তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চকে। আগামীকালই এই বেঞ্চ শুনানি শুরু করবে। বেঞ্চে থাকছেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি আঞ্জারিয়া। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘যাঁরা আগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ এই বেঞ্চে নেই।’
একইসঙ্গে আগামীকালের শুনানিতে চারটি মামলা একসঙ্গে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, ২০২৪ সালের একটি পিটিশন যা আগেই আদালতে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বুধবার উত্থাপিত আরেকটি জনস্বার্থ মামলা। সবকটিই মূলত এনসিআরজুড়ে পথকুকুরদের ধরপাকড় ও আশ্রয় সংক্রান্ত বিতর্ককে নিয়ে।
আদালত দিল্লি সরকার, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি, এনডিএমসি এবং নয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়, দ্রুত কুকুরদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বা পাউন্ড তৈরি করতে হবে। আট সপ্তাহের মধ্যে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার অগ্রগতি আদালতে জানাতে হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত কর্মী থাকতে হবে যাতে কুকুরদের নির্বীজকরণ, কৃমিনাশন ওষুধ দেওয়া ও টিকাকরণ করা যায়। সেইসঙ্গে তাদের যত্ন নেওয়া হবে। কিন্তু রাস্তায়, পাড়া-মহল্লায় বা অন্য কোনও জনসমাগমস্থলে আর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি রাখতে হবে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় কোনও কুকুরকে বেআইনিভাবে ছাড়া বা সরানো না হয়।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, প্রথম পর্যায়ে পাঁচ হাজার কুকুরের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে। পরে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপকে আদালত বর্ণনা করে একটি ‘প্রগতিশীল উদ্যোগ’ হিসেবে।
যার পর দেশজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। অধিকাংশ মানুষই এর প্রতিবাদ জানান। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ওঠে নিন্দার ঝড়। এই পরিস্থিতিতে সোমবারের নির্দেশ দেওয়া বেঞ্চ থেকে বিচারপতিদের সরে দাঁড়ানো নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে। তবে, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সিদ্ধান্তে আদৌ বদল আসে কি না, তা বৃহস্পতিবারই বোঝা যাবে।