জেলবন্দি পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট।

সোনম ওয়াংচুক
শেষ আপডেট: 4 February 2026 22:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-কে নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বুধবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছে জানতে চায়, ওয়াংচুকের বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর আটক নিয়ে নতুন করে ভাবার কোনও সম্ভাবনা আছে কি না।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ মন্তব্য করে জানায়, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য রিপোর্ট সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতিতে আদালতের তরফে কেন্দ্রের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকে নির্দেশ নিতে বলা হয়।
বেঞ্চ মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে, “শুধু আইনি যুক্তি বা পাল্টা যুক্তি নয়, একজন আদালতের আধিকারিক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে একবার ভাবুন। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আটকাদেশ জারি হয়েছিল, প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেল। আমরা যে স্বাস্থ্য রিপোর্ট দেখেছি, তাতে বোঝা যাচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। বয়সজনিত কিছু সমস্যাও থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কি নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে না?”
এর উত্তরে নটরাজ জানান, আদালতের এই প্রস্তাব তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবেন। তবে শুনানির সময় তিনি দাবি করেন, গত বছর লেহ-তে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার জন্য ওয়াংচুকই দায়ী। ওই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ১৬১ জন। নটরাজের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়াংচুকের উসকানিমূলক বক্তব্যই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছিল। তিনি বলেন, “কোনও ব্যক্তি সরাসরি হিংসায় অংশ না নিলেও, একটি গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকলেই তা যথেষ্ট।”
কেন্দ্রের আইনজীবী আরও জানান, ওয়াংচুকের আটকাদেশ ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর অনুমোদিত হয়েছিল এবং সেই অনুমোদনের বিরুদ্ধে কোনও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়নি। এই মামলার শুনানি এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তা ফের চলবে।
এর আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার, কেন্দ্র ও লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জানায়, সীমান্ত সংবেদনশীল এলাকায় মানুষকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগেই ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) অনুযায়ী ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারির ক্ষেত্রে সমস্ত প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
সোমবার কেন্দ্রের তরফে আরও দাবি করা হয়, ওয়াংচুক ‘জেন জ়ি’-কে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো আন্দোলনের পথে নামতে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই এই মামলার শুনানি চলছে। ওই আবেদনে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ওয়াংচুকের আটককে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। এই আইনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে এমন ব্যক্তিদের আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাঁদের কার্যকলাপ ‘ভারতের প্রতিরক্ষার পক্ষে ক্ষতিকর’ বলে মনে করা হয়। সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত এই আটকাদেশ কার্যকর থাকতে পারে, যদিও তার আগেও তা প্রত্যাহার করা সম্ভব।