বুধবার এসআইআর (SIR) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তা নিয়ে যখন সর্বভারতীয় স্তরে হইহই পড়ে গেছে, তখন সন্ধেয় নবান্নকে কড়া চিঠি ধরাল নির্বাচন কমিশন।

শেষ আপডেট: 4 February 2026 21:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার এসআইআর (SIR) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তা নিয়ে যখন সর্বভারতীয় স্তরে হইহই পড়ে গেছে, তখন সন্ধেয় নবান্নকে কড়া চিঠি ধরাল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতে সোমবার ফের শুনানি হবে এসআইআর মামলার। কমিশনের সাফ কথা, সোমবারের মধ্যেই তাদের চিঠির জবাব দিতে হবে। নির্বাচন সদনের এই চিঠির বার্তাটাও যেন সাফ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ (WhatsApp Commission) বলে খোঁচা দিয়ে এসআইএরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কমিশন তার পাল্টা জবাবে বলতে চাইছে তাঁর সরকারও সমানে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ কমিশন-রাজ্য শঠে শাঠ্যং আরও জোরালো হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এখনও মানেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠিতে মোট পাঁচটি গুরুতর অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, দু’জন ইআরও (ERO), দু’জন এইআরও (AERO) এবং এক জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক এইআরও ও বিডিও-র বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এখনও সাসপেন্ড করা হয়নি। তিন জন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়নি, যা কমিশনের নির্দেশের পরিপন্থী। কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম না মেনে এসডিও/এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একইভাবে, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগেও নির্দেশিকা মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সমস্ত ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের পূর্ববর্তী চিঠি উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে। জানানো হয়েছে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে এই সব বিষয়ের বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না এলে পরবর্তী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে এই চিঠি রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন ব্যবস্থার টানাপড়েন আরও প্রকাশ্যে আনল। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবান্ন কী পদক্ষেপ করে।