এই মামলার পরিধি আরও বাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-কে মামলার পক্ষভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রযুক্তি বা ব্যবসায়িক কৌশলের অজুহাতে নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার (Privacy Rights) খর্ব করা যাবে না - এই স্পষ্ট বার্তাই দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। মঙ্গলবার হোয়াটসঅ্যাপ (Whatsapp) ও তার মূল সংস্থা মেটাকে (META) কার্যত ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ডেটা শেয়ারিংয়ের নামে ব্যক্তিগত তথ্যের উপর কোনও রকম হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থা সূত্রের খবর, শুনানির সময় বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “ডেটা শেয়ারিংয়ের (Data Sharing) নামে এই দেশের নাগরিকদের গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না।” আদালত মেটার সেই যুক্তিও খতিয়ে দেখে, যেখানে ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বেঞ্চের কড়া পর্যবেক্ষণ, ‘অপ্ট-আউটের প্রশ্নই বা কোথায়’, এই ধরনের যুক্তি আসলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরিরই একটি ‘ভদ্র’ উপায়।
এই প্রেক্ষিতেই কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা - আমজনতার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত না করতে পারলে ভারত ছেড়ে চলে যান!
এই মামলার পরিধি আরও বাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-কে মামলার পক্ষভুক্ত করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
মূলত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটার দায়ের করা আবেদনগুলির শুনানি চলছিল। এই আবেদনে প্রতিযোগিতা কমিশন অব ইন্ডিয়ার (CCI) সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যেখানে হোয়াটসঅ্যাপের ‘নিতে হবে, নইলে ছাড়ুন’ ধরনের গোপনীয়তা নীতির জন্য জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল। কমিশনের মতে, এই নীতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কার্যত কোনও বিকল্প না দিয়েই শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতিগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যা সাধারণ নাগরিকের পক্ষে বোঝা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ব্যবহারকারীর সম্মতি আদৌ কতটা অর্থবহ, সেই প্রশ্নও ওঠে। বেঞ্চের মন্তব্য, এত জটিল ও ‘চতুরভাবে সাজানো’ শর্তের মধ্যে প্রকৃত সম্মতির ধারণাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এদিকে, ভারতে আইনি চাপে থাকার পাশাপাশি আমেরিকাতেও মেটা নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক একদল ব্যবহারকারী সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নিয়ে সংস্থা কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে বিভ্রান্ত করেছে এবং ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ সংক্রান্ত দাবিতে ভুল তথ্য দিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর একটি মার্কিন জেলা আদালতে দায়ের হওয়া ওই মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা আদৌ কতটা সুরক্ষিত এবং সংস্থার কাছে সেগুলি অপ্রাপ্য কি না।
মেটা অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। সংস্থার দাবি, মামলাটি ভিত্তিহীন। যদিও মামলার নথিতে কয়েক জন তথাকথিত ‘হুইসেলব্লোয়ার’-এর উল্লেখ রয়েছে, তাঁদের নাম বা নির্দিষ্ট ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি সংস্থার ডেটা ব্যবহার ও নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার - এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই এখন আদালতের নজর। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে ডিজিটাল গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।