শীর্ষ আদালতে হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, বীরভূমের নানুর এলাকার নথি খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, সেখানে ৩৮৯ জন ভোটারের বাবার নাম একই। কমিশনের প্রশ্ন, একজন মানুষের পক্ষে এত সংখ্যক সন্তানের বাবা হওয়া কি আদৌ সম্ভব?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা নিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফে নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিজেপির (BJP) ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগের মাঝেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন শীর্ষ আদালতে হলফনামা দিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছে।
কমিশনের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে এমন তথ্য সামনে এসেছে, যা স্বাভাবিক যুক্তির সঙ্গে খাপ খায় না।
শীর্ষ আদালতে হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, বীরভূমের নানুর এলাকার নথি খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, সেখানে ৩৮৯ জন ভোটারের বাবার নাম একই। কমিশনের প্রশ্ন, একজন মানুষের পক্ষে এত সংখ্যক সন্তানের বাবা হওয়া কি আদৌ সম্ভব? এই তথ্যকে তাঁরা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শুধু বীরভূম নয়, একই ধরনের চিত্র মিলেছে রাজ্যের আরও একাধিক জেলায়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে ১৯৯ জন ভোটারের বাবার নাম এক পাওয়া গিয়েছে। দার্জিলিং জেলায় এই সংখ্যা ১৫২। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় একই অভিভাবকের নামে নথিভুক্ত হয়েছেন ১২০ জন ভোটার। আবার শিল্পাঞ্চল আসানসোলে এমন ১৭০ জন ভোটারের তথ্য সামনে এসেছে, যাঁদের অভিভাবকের নাম অভিন্ন। কমিশনের মতে, এই ধরনের তথ্য ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হল - কেন লক্ষাধিক মানুষকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই অভিযোগের জবাব দিতেই সুপ্রিম কোর্টে কমিশন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, এমন অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত তথ্য সামনে আসার কারণেই ব্যাপক সংখ্যায় নোটিস জারি করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদা করে যাচাই করা যায়।
কমিশনের যুক্তি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সামান্য অসঙ্গতিও উপেক্ষা করা যায় না। একই অভিভাবকের নামে বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকা মানে হয় তথ্যভ্রান্তি, নয়তো জাল নথির সম্ভাবনা - দু’ক্ষেত্রেই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। সেই কারণেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে কমিশন।
তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েই এখন নজর শীর্ষ আদালতের দিকে। একদিকে এসআইআরের নামে হেনস্থার অভিযোগ, অন্যদিকে কমিশনের পেশ করা অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান - এই দুইয়ের ভারসাম্য বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট কী পর্যবেক্ষণ দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ আসে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।