পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এসআইআর-এর কাজ নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন সর্বন। নিয়মিত স্কুলের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ, শুনানি এবং রিপোর্টিং - সব মিলিয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছিল।

মৃত বিএলও - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 January 2026 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ফের এক বিএলও-র মৃত্যুকে (BLO Death) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার ঘটনাস্থল উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি (Siliguri)। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত চাপই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে স্কুলশিক্ষকের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শিলিগুড়ির সেবক (Sevok) এলাকায় তিস্তা নদীতে (Teesta River) ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শিক্ষক সর্বন কাহার, এমনই দাবি করছে তাঁর পরিবার।
মৃত সর্বন কাহারের বয়স ছিল ৪২ বছর। তিনি শিলিগুড়ি পুরনিগমের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। পাশাপাশি তিনি ব্লক লেভেল অফিসার বা বিএলও (Siliguri BLO Death) হিসেবেও কাজ করছিলেন। রাজ্যজুড়ে যখন এসআইআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ চলছে, এনিউমারেশন ফর্ম বিলি সম্পূর্ণ, খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং শুনানির কাজ চলছে - ঠিক সেই সময় এই মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল প্রশাসনিক কাজের চাপ নিয়ে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এসআইআর-এর কাজ নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন সর্বন। নিয়মিত স্কুলের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ, শুনানি এবং রিপোর্টিং - সব মিলিয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। সেই চাপ সামলাতে না পেরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সর্বন। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় সেবক থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকে সর্বনের দেহ উদ্ধার করা হয় এবং তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বিএলও-র মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক চলছে - কোথাও আত্মহত্যা, কোথাও আবার অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শিলিগুড়ির এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উস্কে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
খবর পেয়ে রাতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীদের উপর চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।