সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা কৌতুকাভিনেতা সময় রায়না সকলকে তাঁদের পডকাস্ট এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানসূচিতে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সময় রায়না। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা বন্ধ করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা কৌতুকাভিনেতা সময় রায়না সকলকে তাঁদের পডকাস্ট এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানসূচিতে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। রায়না ছাড়াও সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বিপুল গয়াল, বলরাজ পরমজিৎ সিং ঘাই, সোনালি ঠক্কর ও নিশান্ত জগদীশ তানওয়ারকেও নাম করে ক্ষমা চাইতে বলে।
এদিন একটি মামলার শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য পৃথক নির্দেশিকা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে। যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তি, মহিলা, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের নিয়ে হাসি-তামাশা বা তাঁদের বিরোধিতাসূচক রঙ্গ-রসিকতায় রাশ টানা যায়।
দিব্যাঙ্গদের নিয়ে কৌতুক করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট পাঁচজন ইনফ্লুয়েন্সারকে ডেকে পাঠিয়েছিল। গত মে মাসের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ রায়না ও অন্য চার ইনফ্লুয়েন্সারকে কড়া ধমক দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত বলেছিল, অনেকে অবাধ বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করেন। কিন্তু, তা যদি এ ধরনের বাকস্বাধীনতা হয়, তাহলে আমাদের তাতে লাগাম টানার ক্ষমতা আছে। স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, অন্য কাউকে হেয় করা যাবে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট রায়না সহ অন্যদের বলেছে, কাউকে নিয়ে অপমানজনক মজা করা চলে না। এএমএ কিওর ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা এ ব্যাপারে আদালতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তারা অভিযোগ জানিয়েছিল যে, এই পাঁচজন বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে অমানবিক মশকরা করেছিলেন এক স্ট্যান্ড আপ অনুষ্ঠানে। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, আপনাদের পাঁচজনকে আদালতের সামনে যেমন ক্ষমা চাইতে হবে, তেমনই নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়াতেও ক্ষমা চাইতে হবে।
আদালত বলেছে, হাসিঠাট্টা জীবনের একটি অংশ। সেটাকে মজা বলেই মেনে নেওয়া ভাল। আমরা নিজেকে নিয়েও হাসি। কিন্তু, আমরা যখন অন্যকে নিয়ে মশকরা করি তা মানবিকতার সীমা লঙ্ঘন করে যায়। একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়ে মজা করা সমস্যা খাড়া করে।
কৌতুকীদের আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তার জবাবে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, পরেরবার আপনি জানাবেন, এর জন্য কত জরিমানা করা উচিত। আজ এটা দিব্যাঙ্গদের সঙ্গে হয়েছে, কাল এটা মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এমনকী শিশুদের নিয়েও তো হতে পারে। এর শেষ কোথায়, প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।