কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতার নৈতিকতা বোধের পতন নিয়েও সোমবার প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সংবাদ সংস্থার এক প্রশ্নের জবাবে শাহ বলেন, পরপর তিনি তিনটি নির্বাচনে হেরে রাহুল গান্ধী অতীতের নীতিনৈতিকতা সংজ্ঞা ভুলে গিয়েছেন।

দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক বা রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি-আদর্শের কথা দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন শাহ।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীর আচরণে সেই সামঞ্জস্য আজ কোথায় গেল? এমনকী কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতার নৈতিকতা বোধের পতন নিয়েও সোমবার প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন সংবাদ সংস্থার এক প্রশ্নের জবাবে শাহ বলেন, পরপর তিনি তিনটি নির্বাচনে হেরে রাহুল গান্ধী অতীতের নীতিনৈতিকতা সংজ্ঞা ভুলে গিয়েছেন। হতে পারে টানা ভোটে হেরে কংগ্রেস সাংসদের সেই ব্যুৎপত্তি আজ লোপ পেয়ে থাকতে পারে।
দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিক বা রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে রাহুল গান্ধীর অতীতের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি-আদর্শের কথা দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন শাহ। অতীতের রাহুল এবং বর্তমান রাহুলের মধ্যে ফারাকের উদাহরণ দিতে গিয়ে মোদী সরকারের সেকেন্ড কমান্ড ইন চিফ ২০১৩ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। যেবার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস সরকার একটি অর্ডিন্যান্স এনেছিল।
শাহ বলেন, নিজেদের সরকারের আনা অধ্যাদেশ রাহুল গান্ধী নিজেই প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন এবং এর বিরোধিতা করেছিলেন। সেই অর্ডিন্যান্সের লক্ষ্য ছিল, দোষী সাব্যস্ত আইনপ্রণেতাদের আড়াল করা। লোকে বলে থাকে, সেই সময়ে আরজেডি সমর্থিত ইউপিএ সরকারের শরিক লালুপ্রসাদ যাদবকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি এই অর্ডিন্যান্স নিয়ে এসেছিল মনমোহন মন্ত্রিসভা।
সংবাদ সংস্থার সামনে শাহ বলেন, লালুজিকে বাঁচাতে মনমোহন সিং যে অধ্যাদেশ নিয়ে এসেছিলেন, তা কেন রাহুলজি সকলের সামনে ছিঁড়ে ফেলে তার বিরোধিতা করেছিলেন? তখন তাঁর মধ্যে যদি নীতিবোধ ছিল, তাহলে এখন তা কোথায় গেল? এর কারণ কী উনি পরপর টানা তিনটি নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন, তাই? শাহ বলেন, নৈতিকতা বোধের পরিমাপ সময় অনুযায়ী বদলে যেতে পারে না। কারও নীতি-নৈতিকতা ভোটে জেতা-হারার উপর নির্ভর করে না। নীতিবোধ চন্দ্র-সূর্যের মতো স্থিতিশীল, অনড় থাকে।
উল্লেখ্য, লালুপ্রসাদ যাদবের জমানায় কুখ্যাত গোখাদ্য কেলেঙ্কারিতে আরজেডি যখন জেরবার তখন একটি অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসে মনমোহন সরকার। এই অধ্যাদেশে দোষী সাব্যস্ত আইনপ্রণেতাদের আসন ধরে রাখার জন্য তিন মাসের একটি রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু, তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয়ে যায়। এবং পরে তা তুলে নেয় সরকার।
অমিত শাহ এদিন সাম্প্রতিক ১৩০-তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০২৫ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। যেখানে কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীরা ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ৩০ দিনের বেশি হেফাজতে থাকবেন, তাঁদের পদ আপনাআপনিই খারিজ হয়ে যাবে। শাহ এই সাক্ষাতে বলেন, আইন তো শুধু বিরোধীদের জন্য, তা হতে পারে না। এটা বিজেপির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রীকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে, এর বেশি কী চাই!