শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে, মোদ্দা কথা যেখানে-সেখানে বেওয়ারিশ কুকুরকে খাওয়ানো চলবে না। এইভাবে রাস্তায় কুকুরকে খাওয়ানো বেআইনি কাজ বলে গণ্য হবে।

পথকুকুরকে অতি অবশ্যই নির্দিষ্ট খাওয়ানোর জায়গায় খাবার দিতে হবে।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথকুকুরদের নিয়ে রায়ে উল্লেখযোগ্য এক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে, মোদ্দা কথা যেখানে-সেখানে বেওয়ারিশ কুকুরকে খাওয়ানো চলবে না। এইভাবে রাস্তায় কুকুরকে খাওয়ানো বেআইনি কাজ বলে গণ্য হবে। পথকুকুরকে অতি অবশ্যই নির্দিষ্ট খাওয়ানোর জায়গায় খাবার দিতে হবে। এর জন্য পুরসভা কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কুকুরদের খাওয়ানোর জায়গা করে দিতে হবে।
আদালত আরও বলেছে, যদি কাউকে এই নির্দেশ অমান্য করতে দেখা যায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। লাওয়ারিশ কুকুরকে যেখানে-সেখানে খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে বহু জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। এই আবেদনে সাড়া দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এবার থেকে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট জায়গাতে গিয়েই বেওয়ারিশ কুকুর বা পাড়ার কুকুরকে খাওয়াতে হবে। আদালতের বক্তব্য, যেখানে-সেখানে কুকুরকে খাওয়ানো একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। যাতে পথঘাট, অলিগলি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযুক্ত থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি আঞ্জারিয়া এই নির্দেশ দেন। গত ৮ অগস্টের নির্দেশে কিছুটা সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাস্তার কুকুরগুলিকে ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এই রায়ে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছে। অনেকেরই অনুমান ছিল, পূর্বের নির্দেশে পথকুকুর সম্পূর্ণত বিনাশ করে ফেলা হবে। শীর্ষ আদালত নয়া রায়ে বলেছে, যে কুকুর ব়্যাবিস রোগাক্রান্ত কিংবা অত্যন্ত হিংসাত্মক আচরণের তাদের প্রতিষেধক নিয়ে পৃথক আস্তানায় রেখে দিতে হবে।
মামলার বিবরণ বিস্তারিত পাঠ করে পরবর্তীতে একটি জাতীয় নীতি রূপায়ন করা হবে বলে সর্বোচ্চ আদালত জানায়। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, রাস্তার কুকুরদের ছেড়ে দেওয়ার নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। এগুলিকে ওষুধপত্র দিয়ে রোগমুক্ত করতে হবে। প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন দিতে হবে এবং তারপর প্রতিটিকে তাদের পাড়ায় ছেড়ে দিয়ে আসতে হবে।
প্রসঙ্গত, এই সমস্যা কেবলমাত্র দিল্লি ও লাগোয়া এলাকাতেই নয়, সমগ্র দেশের ক্ষেত্রে একই। দেখা যায়, পথকুকুরপ্রেমীরা রাস্তার ধারে দুপুরে ও রাতে থালায় করে ভাত-মাছ মেখে খেতে দিচ্ছেন অথবা ঢেলে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। এই খাবার খেতে গিয়ে অযথা কুকুরগুলি মারামারি করছে, চিৎকার করছে। এমনকী রাস্তা দিয়ে যাওয়া পথচারীকে আক্রমণও করছে। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্ট এদিন এই নির্দেশ দিয়েছে।