আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, কয়েকটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, পরে যাচাইয়ে ভারতীয় প্রমাণিত হলে ফের ফিরিয়ে আনা হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 August 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের (Bengali Muslim) বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে নির্বিচারে আটক করার অভিযোগে কেন্দ্র ও ৯ রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক সার্কুলারের পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি তথা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম শ্রমিকদের নির্বিচারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, অথচ যাচাইয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে তাঁরা ভারতীয় নাগরিক।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানান, কয়েকটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, পরে যাচাইয়ে ভারতীয় প্রমাণিত হলে ফের ফিরিয়ে আনা হয়। দিল্লি পুলিশের এক দাবি নিয়ে ভূষণ মন্তব্য করেন—“ওরা বলেছে কাগজপত্র ‘বাংলাদেশি ভাষায়’, অথচ বাংলাদেশি ভাষা বলে কিছু নেই, সেটা বাংলা।”
ভূষণের অভিযোগ, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করা আইনবিরুদ্ধ। “যাচাই করুন—সমস্যা নেই। কিন্তু আটক ও নির্যাতন করা অন্যায়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। বিদেশি আইনে এভাবে কেবল সন্দেহের কারণে কাউকে আটক করার ক্ষমতা দেয় নি”।
বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, শ্রমিকরা যে রাজ্য থেকে আসছেন ও কর্মস্থল রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য একটি নোডাল সংস্থা থাকা উচিত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিও জানতে চান, আইন অনুযায়ী এমন কোনও সংস্থা আছে কি না।
আদালত আপাতত আটক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী রেহাই দেয়নি, কারণ প্রথমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শোনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বেঞ্চ। বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রস্তাব দেন, বৈধ শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকার পরিচয়পত্র দিতে পারে, যা স্থানীয় পুলিশ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে, দেশজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের সুরক্ষা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।