বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন— যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী অবৈধভাবে প্রবেশ করে থাকে, তবে কী হবে?

আদালত এদিন অবাধে অনুপ্রবেশের ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
শেষ আপডেট: 14 August 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে চলা অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযানের উপর কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালতের মন্তব্য, বাস্তবতা না জেনে কোনও একতরফা আদেশ দেওয়া সম্ভব নয়। বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন— যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী অবৈধভাবে প্রবেশ করে থাকে, তবে কী হবে? যদি আপনি তাদের আটক না করেন, তাহলে এটা স্পষ্ট যে, তারা উধাও হয়ে যাবে। আদালত আরও জানায়, সরকারের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আটক ও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া বন্ধ হবে না। আদালত এদিন অবাধে অনুপ্রবেশের ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের তরফে শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং সেই ভাষায় থাকা নথির কারণে অনেককে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। প্রশান্তের কথায়, ওই ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত চলার মাঝেই তাঁদের আটক করা হচ্ছে। এমনকী, কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের উপর নির্যাতনও করছে পুলিশ। তার পরেই মামলাকারীর পক্ষে আবেদন করা হয়, আটক বন্ধ রাখার জন্য অন্তবর্তী নির্দেশ দিক আদালত।
আদালত দুসপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে তাদের আইনি অবস্থান ও জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের আবেদনের ভিত্তিতে সমস্ত রাজ্যকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের উৎপত্তিস্থল যাচাইয়ের জন্য কোনও কার্যকর পদ্ধতি বা নোডাল এজেন্সি আছে কি না, যা মূল রাজ্য ও কর্মস্থল রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করতে পারে। আবেদনকারীর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। তবে আদালতের বক্তব্য, বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। যদি কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে, তবে তার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসড়, হরিয়ানা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জবাব তলব করে।