সুপ্রিম কোর্ট কোচিং সেন্টার সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এক নির্দেশিকা বেঁধে দিল। এতে দেশের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শিক্ষা পরিবেশে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার মাপকাঠি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

একদিকে বাড়ির লোকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভাল ফলের ইঁদুরদৌড় মানসিকভাবে অনেক মেধাবীও হজম করতে পারছেন না।
শেষ আপডেট: 26 July 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়াশোনা ও প্রজেক্টের চাপ সহ্য করতে না পেরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উত্তরোত্তর বাড়ছে। একদিকে বাড়ির লোকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভাল ফলের ইঁদুরদৌড় মানসিকভাবে অনেক মেধাবীও হজম করতে পারছেন না। যে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁরা উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছিলেন, সেখান থেকে নিতে হতে হচ্ছে চিরবিদায়। আর এসব দিক মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট কোচিং সেন্টার সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এক নির্দেশিকা বেঁধে দিল। এতে দেশের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার শিক্ষা পরিবেশে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার মাপকাঠি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে দু বছর আগে ১৭ বছরের এক নিট প্রত্যাশী পড়ুয়ার মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়াকালীন শুক্রবার এই নির্দেশিকা বেঁধে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চের মতে, ছাত্রকেন্দ্রিক পরিবেশে আত্মহত্যার মতো মারাত্মক ঘটনা কীভাবে প্রতিহত করতে হবে, তার কোনও ব্যবস্থা নেই। জোবজবরদস্তি ভাল ছাত্র তৈরির চেষ্টা করে তাদের মধ্যে মানসিক বিচলন তৈরি করা হচ্ছে। এদেশে এখনও আইনি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এক শূন্যতা রয়েছে এক্ষেত্রে। যদিও সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা এই ব্যবস্থার বিরোধী। সে কারণে সংবিধানের ১৪১ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১০০ কিংবা তার বেশি পড়ুয়া আছে, সেখানে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যার প্রবণতামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
জয়পুর, কোটা, সিকর, চেন্নাই, হায়দরাবাদের মতো শহরগুলি, যেখানে হাজার হাজার পড়ুয়া উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়তে যান, তাদের বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলি এবং জেলা প্রশাসনগুলিকে বেঞ্চের নির্দেশ, নিয়মিতভাবে পড়ুয়াদের সঙ্গে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং পড়ুয়া ও বাবা-মায়ের মানসিক উদ্বেগ কাটাতে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা কাউন্সেলিং করাতে হবে। যাতে তাঁরা নিশ্চিন্ত ও নিরুদ্বেগে থাকতে পারেন।
পড়ুয়াদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও অভিযোগ সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। এমনকী সরকারি শিক্ষা দফতরকে শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাবর্ষের পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ করে দিতে হবে। যাতে কোনও পড়ুয়ার উপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি না করা হয়, তার দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ সর্বস্তরের প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকরী করা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি দুক্ষেত্রেই।