সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের আড়াই মাস পর রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ বাবদ কত টাকা দিতে হবে তা তো হিসাব করা হয়নি। এ জন্য অন্তত দু’মাস সময় লাগবে।

শেষ আপডেট: 5 August 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ২৭ জুনের মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) ২৫ শতাংশ মেটায়নি রাজ্য সরকার। উল্টে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের আড়াই মাস পর রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বকেয়া ডিএ বাবদ কত টাকা দিতে হবে তা তো হিসাব করা হয়নি। এ জন্য অন্তত দু’মাস সময় লাগবে। মঙ্গলবার রাজ্যের এই সওয়াল শুনে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court DA Case hearing today) বিচারপতিরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, হিসাব করে কিছু অন্তত মিটিয়ে দিক সরকার।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও শ্যাম দিওয়ান। কপিল তাঁর সওয়ালে বলেন, আমাদের তো টাকার অভাব। তা ছাড়া রাজ্য সরকার তো ইচ্ছামতো আর্থিক ঘাটতি বাড়াতে পারে না। এত টাকার জন্য তো রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিতে হবে। যা সহজ ব্যাপার নয়। ধার করলে আবার বিধানসভা থেকে পাশ করাতে হবে।
কপিল বলেন, কেন্দ্রের সরকারও তো আমাদের টাকা আটকে রেখেছে। একশ দিনের কাজ প্রকল্পের টাকা দিচ্ছে না। রাজ্য সরকারকে খরচ করতে হচ্ছে। ফলে রাজ্য সরকার বাড়তি টাকা কোথা থেকে পাবে। কপিল এদিন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট তথা আদালত এটা বলতে পারে না যে উপভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে ডিএ দিতেই হবে। এটা চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
কপিলের এ কথা শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, রাজ্য সরকারকে যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতে বলা হয়েছিল, তার কী হল? জবাব কপিল বলেন, ২৫ শতাংশ মানে কত টাকা সেটা তো হিসাব কষে বের করতে হবে। যা শুনে আদালত বলে, কিছু একটা সঙ্গত অঙ্ক স্থির করে ২৫ শতাংশ দিয়ে দিতে বলুন রাজ্য সরকারকে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তো আপনাদেরই লোক, আপনাদের হয়েই কাজ করে।
এদিনের শুনানিতে মূলত রাজ্য সরকারের বক্তব্য শোনে সর্বোচ্চ আদালত। সরকারের তরফে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান তাঁর সওয়ালে বলেন, মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নয় যে তাঁদের দিতেই হবে। এ ব্যাপারে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতাও নেই। সবটাই রাজ্য সরকারের ইচ্ছা তথা এক্তিয়ারের মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, এমন নয় যে রাজ্য সরকার ডিএ দিতে চায় না। তবে রাজ্যের আর্থিক তাকত কতটা সেটাও এখানে বিবেচ্য বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে তুলনা করার কোনও জায়গা নেই। আদালতও বলতে পারে না যে কেন্দ্রের সমহারে রাজ্য সরকার ডিএ দিক, বা উপভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী ডিএ দিক।
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি কাল বুধবারও চলবে। বুধবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে আইনজীবীরা সওয়াল করবেন। এদিন মামলাকারীরা বলেন, আমরাও বলছি না ডিএ পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। তবে উপভোক্তা মূল্য সূচকের বিষয়টি অনুসরণ করার কথা রাজ্য সরকারের রোপাতেই রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের কথাতেই পরিষ্কার যে বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যাপারে রাজ্যের না আছে অর্থ না আছে ইচ্ছা। এখন সবটাই নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের উপর।