ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে একের পর এক উত্তেজক ঘটনা সামনে আসছে। বিভিন্ন জেলায় রোল অবজার্ভার এবং বুথস্তরের আধিকারিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

ডিজি পীযুষ পাণ্ডে
শেষ আপডেট: 20 February 2026 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) প্রাক্কালে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার (West Bengal SIR Case) শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে রাজ্যের ডিজি-কে (DGP) কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে - এমনই সতর্কবার্তা দিলেন প্রধান বিচারপতি।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া (West Bengal SIR) ঘিরে একের পর এক উত্তেজক ঘটনা সামনে আসছে। বিভিন্ন জেলায় রোল অবজার্ভার এবং বুথস্তরের আধিকারিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ফর্ম-৭ জমা ও তা ঘিরে আপত্তি নিয়েও একাধিক স্থানে অশান্তির খবর মিলেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিকেই উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
শুক্রবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলার (West Bengal Law and Order) এই অবনতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে অনুকূল নয়। যদি অবিলম্বে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না হয়, কিংবা পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ না করে, তবে ডিজি-কে জবাবদিহি করতে হবে।
শুক্রবারের শুনানিতে কমিশনের (ECI) তরফে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। জানানো হয়, এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত গ্রুপ-বি কর্মী চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনও সাড়া মেলেনি। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানায়, প্রয়োজনে কমিশন নিজেদের আধিকারিক এনে কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।
রাজ্যের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, হয় রাজ্যের কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গ্রুপ-বি কর্মী নেই, যা আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী; নয়তো কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কাজে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। উভয় ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করে দেন তিনি।
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। কমিশন এবং রাজ্য - উভয়েরই বিষয়টি সমানভাবে উপলব্ধি করা উচিত।
অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষক নামে নতুন ধরনের পদ সৃষ্টি করে তাঁদের ইআরওদের কাজে হস্তক্ষেপের সুযোগ দিয়েছে। পাল্টা কমিশনের সাফাই, এসআইআর শুরুর প্রথম পর্যায় থেকেই বিশেষ পর্যবেক্ষকরা দায়িত্বে রয়েছেন, এতে নতুন কিছু নেই।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে নতুন করে চাপ বাড়ল রাজ্যের উপর।