ভারতের প্রধান বিচারপতির (Supreme Court Chief Justice) জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন এখনও খালি করেননি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ( Former CJI DY Chandrachud)।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়
শেষ আপডেট: 6 July 2025 09:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রধান বিচারপতির (Supreme Court Chief Justice) জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন এখনও খালি করেননি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ( Former CJI DY Chandrachud)। বাড়ি খালি করাতে বাধ্য হয়েই এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। যে ঘটনা একেবারেই বেনজির বলা যেতে পারে।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির পদে ছিলেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তিনি এখনও দিল্লির লুটিয়েনস এলাকার কৃষ্ণ মেনন মার্গের টাইপ এইট শ্রেণির বাংলোতে থাকেন। ওই সরকারি বাসভবনে তাঁর থাকার বৈধ মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে ৩১ মে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সরকারি পুল থেকে টাইপ এইট বাংলো পান। জেনে রাখা ভাল, সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী বা নেতারা সাধারণত টাইপ এইট বাংলো পান। যেমন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) টাইপ এইট বাংলোয় থাকেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ১ জুলাই একটি চিঠিতে কেন্দ্রীয় গৃহ ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে জানিয়েছে, এই বাসভবনে চন্দ্রচূড়ের থাকার মেয়াদ ইতিমধ্যেই ৩১ মে শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি বাসভবন ধরে রাখতে পারেন। সেই সময়সীমাও ১০ মে, ২০২৫-এ শেষ হয়ে গিয়েছে। অতএব অবিলম্বে এই বাড়িটি দখলে নেওয়া হোক।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ও। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই তিনি এখনও বাড়িটি ছাড়তে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের তরফে তাঁকে একটি বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে ভাড়ার ভিত্তিতে, তবে বহু বছর ব্যবহৃত না হওয়ায় তা বসবাসযোগ্য নয়। সেই বাড়ির সংস্কার শেষ হলেই তিনি সেখানেই চলে যাবেন।
চন্দ্রচূড় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আমার দুই মেয়ে, তাদের দুজনেরই বিশেষ প্রয়োজনে চিকিৎসা চলছে। তারা নেমালাইন মায়োপ্যাথি নামে একটি বিরল রোগে ভুগছে, এবং নিয়মিত AIIMS-এ চিকিৎসাধীন। তাদের কথা মাথায় রেখেই একটি বিশেষভাবে উপযুক্ত বাড়ির প্রয়োজন ছিল।”

২০২২ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির টাইপ এইট শ্রেণির বাড়িতে থাকার অনুমতি নেই। অথচ, বিচারপতি চন্দ্রচূড় এই ধরনের বাড়িতেই এখনও বসবাস করছেন। যদিও শুরুর দিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত, পরে মে মাস অবধি বাড়ানো হয় মৌখিকভাবে। তবে এর পর আর কোনও বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়নি।
চন্দ্রচূড় আরও বলেছেন, “আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। আমি দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতি ছিলাম এবং জানি কবে কী করতে হবে। কিছু দিনের মধ্যেই আমি বাড়িটি ছেড়ে দেব।”
তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এবার কোনওরকম ‘গ্রেস পিরিয়ড’ না দিয়ে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছে—তারা আর অপেক্ষা করবে না। অবিলম্বে বাড়ি ফেরতের দাবি জানিয়েছে তারা।
সাধারণত, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের ক্ষেত্রে এমন হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। কিন্তু এই প্রথম, সুপ্রিম কোর্ট নিজেই লিখিতভাবে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে সরকারি বাসভবন ছাড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে।