ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও অলৌকিকভাবে প্রাণে রইল ১১ মাসের এক শিশু। হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যায় যখন রাতারাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল এক পরিবার।

হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা
শেষ আপডেট: 6 July 2025 08:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও অলৌকিকভাবে প্রাণে রইল ১১ মাসের এক শিশু। হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যায় যখন রাতারাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল এক পরিবার, তখন নিজের ঘরের ভিতরেই জীবিত অবস্থায় মিলল ছোট্ট নিকিতা। মাত্র ১১ মাস বয়স। বাইরে ঝড়জল তাণ্ডব চালালেও কিছুই টের পায়নি সে।
ঘটনাটি ঘটেছে হিমাচল প্রদেশের সেরাজ বিধানসভা কেন্দ্রের এক পাহাড়ি গ্রামে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবল বর্ষণে বাড়ির পিছনের ছোট্ট স্রোতস্বিনী হঠাৎ ফুলে ওঠে। সেই জল আটকাতে বাইরে বেরিয়ে যান নিকিতার বাবা রমেশ, মা রাধা ও ঠাকুমা পূর্ণু দেবী। কিন্তু মুহূর্তেই জলের তোড়ে ভেসে যান তিনজনেই। ঘরের ভিতর গভীর ঘুমে মগ্ন ছিল নিকিতা। সেই ঘরই ঠেকিয়ে দেয় মৃত্যুকে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই রমেশের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। রাধা ও পূর্ণু দেবীর খোঁজে চলছে তল্লাশি। নিকিতার এই অলৌকিক বেঁচে যাওয়া নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। শুধু স্থানীয়রাই নয়, দেশের নানা প্রান্ত থেকেও মানুষ যোগাযোগ করছেন প্রশাসনের সঙ্গে। কেউ কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে নিকিতাকে দেখভাল করছেন তার পিসি তারা দেবী।
গোহারের এসডিএম স্মৃতিকা নেগি জানিয়েছেন, “প্রতিদিন বহু মানুষ ফোন করছেন। সবাই চান নিকিতাকে দত্তক নিতে। ও খুব মিষ্টি বাচ্চা। আমি নিজেও যখনই সুযোগ পাই, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে যাই।” ৩০ জুন ও ১ জুলাইয়ের বৃষ্টিতে হিমাচলের বহু এলাকায় নেমে আসে বিপর্যয়। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে হু হু করে নেমে আসে জল। বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। অনেক পরিবার ছিন্নভিন্ন।