শীর্ষ আদালত উভয় পক্ষকেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে আদালতের তরফে।

ভোজশালায় যুগপৎ প্রার্থনা
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ধর জেলার বিতর্কিত ভোজশালা–কামাল (Bhojshala) মৌলা মসজিদ চত্বরে শুক্রবারের প্রার্থনা সংক্রান্ত জট কাটাতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একই দিনে পড়ায় যাতে কোনও পক্ষের ধর্মীয় অধিকার খর্ব না হয়, সে জন্য হিন্দু ও মুসলিম (Hindu Muslim), দু’পক্ষকেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, বসন্ত পঞ্চমীর দিনে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হিন্দুরা ভোজশালায় পুজো ও ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা শুক্রবারের নমাজ পড়তে পারবেন দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে। তবে নমাজে অংশ নিতে আসা মুসলিমদের নামের তালিকা আগাম জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত উভয় পক্ষকেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে আদালতের তরফে।
‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ (HFJ) নামে একটি হিন্দু সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই মামলা চলছিল। সংগঠনের তরফে আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর জৈন ২ জানুয়ারি আবেদন দায়ের করেন। তাঁদের দাবি ছিল, বসন্ত পঞ্চমীর দিনে ভোজশালায় কেবল হিন্দুদেরই প্রার্থনার একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হোক। আবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালে আর্কিয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র জারি করা নির্দেশিকায় এমন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ নেই, যখন বসন্ত পঞ্চমী ও শুক্রবার একই দিনে পড়ে।
ভোজশালা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একাদশ শতকের এই স্থাপত্যকে হিন্দু সম্প্রদায় দেবী সরস্বতীর মন্দির বা বাগদেবীর উপাসনালয় হিসেবে মানে। অন্যদিকে মুসলিমদের কাছে এটি কামাল মৌলা মসজিদ। ২০০৩ সালের এএসআই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত মুসলিমদের নমাজের অনুমতি রয়েছে। পাশাপাশি, বসন্ত পঞ্চমীতে হিন্দুদের বিশেষ পুজো এবং প্রতি মঙ্গলবার তাঁদের একচেটিয়া প্রবেশাধিকারও স্বীকৃত।
তবে বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবারে পড়লে কী হবে, সে বিষয়ে ওই নির্দেশে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে চতুর্থ বার এমন সমাপতন ঘটছে। এর আগে ২০০৬, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে একই পরিস্থিতি হয়েছিল।
এই আবহে ধর জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে সিআরপিএফ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও রয়েছে। শহরজুড়ে চলছে হেঁটে ও যানবাহনে টহল। সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেই কড়া নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন।