গত বুধবার সকালে বারামতীতে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় (Baramati Plane Crash) মৃত্যু হয় অজিত পাওয়ারের।

অজিতে চেয়ারে সুনেত্রা পাওয়ার!
শেষ আপডেট: 30 January 2026 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে (Ajit Pawar death in plane Crash) মহারাষ্ট্রের রাজ্য-রাজনীতি কার্যত শোকস্তব্ধ। আগামী দিনে এনসিপিকে (NCP) নেতৃত্ব দেবেন কে? কেই বা হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিল। যদিও দলের অন্দরেই একপ্রকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছিল যে অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকেই (Sunetra Pawar) পরবর্তী উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে। অবশেষে সেই খবরেই সিলমোহর পড়ল বলে সূত্রে জানা যাচ্ছে। আগামিকাল, শনিবার রাজভবনে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ (Maharashtra Deputy CM oath) নিতে পারেন অজিত-ঘরণী।
একইসঙ্গে আরও একটি বড় পরিবর্তন আসছে দলে। এনসিপির সভাপতি পদেও ছিলেন অজিত পাওয়ার। তাঁর অকাল প্রয়াণের পর এবার সেই দায়িত্ব নিতে চলেছেন দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল।
অজিতের প্রয়াণে দিশেহারা এনসিপি, সিদ্ধান্ত সুনেত্রাকে ঘিরেই
গত বুধবার সকালে বারামতীতে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় (Baramati Plane Crash) মৃত্যু হয় অজিত পাওয়ারের। দীর্ঘদিন ধরে এনসিপিকে (NCP) সামলেছেন তিনি। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন তিনিই। ফলে তাঁর মৃত্যুতে কার্যত ভরাডুবির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল দলে।
এই অবস্থায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টোয় দলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকের নেতৃত্বে থাকবেন সুনেত্রা পাওয়ার (Sunetra Pawar)। বৈঠকের পরই বিকেল ৫টা নাগাদ মুম্বইয়ের রাজভবনে পৌঁছে শপথ নেবেন তিনি, এমনটাই নিশ্চিত করেছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
সূত্রের দাবি, অজিতের মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক পর থেকেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তড়িঘড়ি আলোচনা শুরু করেন এনসিপি নেতারা। প্রফুল প্যাটেল-সহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রথমে দীর্ঘ বৈঠক করেন সুনেত্রা। সেই বৈঠকের পরই তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী (Maharashtra Deputy CM) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বারামতী থেকেই প্রার্থী হতে পারেন সুনেত্রা
এনসিপির প্রধান লক্ষ্য এখন বারামতী কেন্দ্র ধরে রাখা, যেটি পাওয়ার পরিবারের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত। বারামতী থেকেই সাতবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও এই কেন্দ্রের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তাই সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে পরবর্তী ধাপে বারামতী থেকেই তাঁকে বিধায়ক করতে চাইছে এনসিপি। বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি গোষ্ঠীর সঙ্গে ‘মিলন’ এখনই ভাবছে না অজিত গোষ্ঠী।
দলের অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি সিদ্ধান্ত
ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতির ইতিহাস বলছে, প্রতিষ্ঠাতা বা উত্তরাধিকারী ছাড়া আঞ্চলিক দল টিকে থাকা কঠিন। অজিতের মৃত্যুতেই ঠিক এই ভয়েই কাঁপছিল এনসিপি। কারণ দীর্ঘদিন কাকার ছায়ায় রাজনীতি করলেও শেষ কয়েক বছরে তিনি নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, দলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতেই। কিন্তু উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। এই অবস্থায় তাঁর স্ত্রীকে সামনে রেখেই নতুন করে সংগঠনকে দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করল এনসিপি।