দলীয় সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর (Deputy CM) পদে প্রয়াত নেতার স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে (Sunetra Pawar) প্রস্তাব করতে চলেছে এনসিপি। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ (Rajyasabha)।

সুনেত্রা পাওয়ার ও অজিত পাওয়ার
শেষ আপডেট: 29 January 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পর জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (NCP) অন্দরে শুরু হয়েছে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ নিয়ে টানাপড়েন। দলীয় সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর (Deputy CM) পদে প্রয়াত নেতার স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে (Sunetra Pawar) প্রস্তাব করতে চলেছে এনসিপি। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য (Rajyasabha)।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দফতরের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নরহরি জিরওয়াল জানান, “জনগণের দাবি, সুনেত্রা পাওয়ারকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় আনা হোক।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র আরও জানাচ্ছে, এনসিপির প্রবীণ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল, ছগন ভুজবল, ধনঞ্জয় মুন্ডে ও সুনীল তাটকরে ইতিমধ্যেই সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছেন। অভ্যন্তরীণ পরামর্শ পর্বের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা চলছে। সূত্রের দাবি, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে যে বিধানসভা আসনটি শূন্য হয়েছে, সেখানে সুনেত্রা পাওয়ারকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও প্রবল।
অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার প্রাক্তন মন্ত্রী পদ্মসিং বাজিরাও পাতিলের বোন। তাঁদের দুই পুত্র— বড় ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং ছোট ছেলে জয় পাওয়ার। পার্থ মহারাষ্ট্রের মাভাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন। জয় পাওয়ার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
দলীয় পরিকল্পনায় শুধু বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই নয়, সুনেত্রা পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। সেই প্রস্তাব নিয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
এই পর্বে দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল নেতৃত্বের দায়িত্বে সামনে আসতে পারেন বলেও সূত্রের ইঙ্গিত। তবে শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-র সঙ্গে সম্ভাব্য একীভবন নিয়ে আলোচনা আপাতত পরবর্তী পর্যায়ে তোলা হতে পারে।
যদিও দলীয় সূত্রের দাবি, পুরসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এনসিপি (এসপি)-র সঙ্গে একীভবন নিয়ে কথাবার্তা চালাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। এ বিষয়ে নরহরি জিরওয়াল বলেন, “দুই শিবির আসলে আলাদা নয়। সবাই বুঝে গিয়েছেন, ছড়িয়ে থাকার কোনও মানে নেই। একসঙ্গেই থাকতে হবে।”
উল্লেখ্য, বিজেপি এবং একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে জোট বেঁধে মহারাষ্ট্রে শাসক মহায়ুতি জোটের শরিক অজিত পাওয়ারের এনসিপি। বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার এবং আরও চার জনের মৃত্যুর পর শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, রাজ্যের রাজনীতিতেও তৈরি হয়েছে বড়সড় শূন্যতা। সেই শূন্যতা কী ভাবে পূরণ হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।