ফুটবল খেলতে খেলতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল শিলংয়ের সাংসদ রিকি সিংকনের। চিকিৎসকদের ধারণা, আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টই প্রাণ কেড়ে নিল জনপ্রিয় এই ভিপিপি নেতাকে।

শিলংয়ের সাংসদ
শেষ আপডেট: 20 February 2026 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবল খেলতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ শিলংয়ের সাংসদ রিকি এ জে সিংকন। মৃত্যু হল ঘটনাস্থলেই। মাঠে উপস্থিত সকলে তখন হতবাক। ঘটনায় শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় শিলংয়ের (Shillong) কাছে মাওলাই মাওইয়ং (Mawlai Mawiong) এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল ম্যাচ খেলছিলেন সিংকন। খেলতে খেলতেই আচমকা মাঠে লুটিয়ে পড়েন। বন্ধুরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে মাওইয়ং কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে (Mawiong CHC) নিয়ে যান। কিন্তু সেসময় সেখানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে তাঁকে আরও ভাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেফার করা হয়।
এর পর দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলংয়ের ড. এইচ গর্ডন রবার্টস হাসপাতালে (Dr. H Gordon Roberts Hospital)। সেখানেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
সিংকনের বন্ধুদের অভিযোগ, এই হাসপাতালে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দেওয়া হয়নি। প্রাণ ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনও চিকিৎসাই সেভাবে করেননি ডাক্তাররা। রাত ৮টা ৪২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করে দেওয়া হয়। সাংসদের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ রাজ্য রাজনীতি।
প্রাক্তন অধ্যাপক সিংকন ছিলেন প্রথমবারের সাংসদ। ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিপুল ব্যবধানে জিতে উঠে আসেন রাজনীতির একেবারে সামনে সারিতে। তিনবারের কংগ্রেস সাংসদ ভিনসেন্ট এইচ পালাকে (Vincent H Pala) প্রায় ৩.৭ লক্ষ ভোটে পরাজিত করেন তিনি—যা নজর কেড়েছিল গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।
সংবাদ ছড়াতেই রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্ব একে একে হাসপাতালে পৌঁছে যান। উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টন টিনসাং (Prestone Tynsong), ভিপিপি সভাপতি আর্দেন্ট মিলার বাসাইওমইত (Ardent Miller Basaiawmoit)-সহ বহু বিধায়ক ও রাজনৈতিক নেতা।
শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা (Conrad Sangma)। তিনি লেখেন, “ড. রিকি ছিলেন নিষ্ঠাবান, বিনয়ী, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা এক নেতা। এমন অকস্মাৎ মৃত্যু গভীর শূন্যতা তৈরি করল।”
সাংসদের ঠিক কী কারণে মৃত্যু হল, তা এখনও জানা যায়নি স্পষ্টভাবে। তবে, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে হয়তো। তবে, তাঁরা সকলেই মনে করছেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ক্ষেত্রে অনেকসময় প্রথম কয়েক মিনিটে চিকিৎসা পেলে রোগী বেঁচে যেতেও পারেন কিন্তু এক্ষেত্রে সময় লেগে যাওয়ায় আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।