২০২২ সালে অ্যাকজিয়ম-১ মিশনে মহাকাশে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের মহাকাশচারী এয়টেন স্টিব্বে (Eytan Stibbe)। সেই তিনিই এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন।
.jpg.webp)
শুভাংশু শুক্লা-এয়টেন স্টিব্বে
শেষ আপডেট: 31 May 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Subhangshu Shukla) যখন অ্যাকজিয়ম-৪ (Axiom-4) মিশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) যাওয়ার প্রস্তুতি করছেন, সেইসময়েই সামনে এল এক বন্ধুত্বের ছবি। ভারতের দিকে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল ইজরায়েল। ২০২২ সালে অ্যাকজিয়ম-১ মিশনে মহাকাশে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের মহাকাশচারী এয়টেন স্টিব্বে (Eytan Stibbe)। সেই তিনিই এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানে শুভাংশুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল স্টিব্বের। সেখান থেকেই সূচনা হয় এক অভিনব উদ্যোগের- লখনউয়ের শিশুদের মহাকাশ গবেষণার স্বপ্ন দেখানো। তাঁরা এমন কিছু তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যেটি ভারতীয় পড়ুয়াদের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে জানার আগ্রহ তৈরি করবে।
লখনউয়ের সিটি মন্টেসরি স্কুলের (CMS) ছাত্র ছিলেন শুভাংশু। সেখানেই গড়ে উঠছে একটি মিশন কন্ট্রোল সেন্টার। এই সেন্টার থেকে ছাত্রছাত্রীরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারে ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশুর কাজের খুঁটিনাটি তথ্য জানতে পারবে।
এয়টেন স্টিব্বে বলেন, "যা আমরা ইজরায়েলে করেছি এবার একই জিনিস ভারতে করতে চাই। অল্প বয়স থেকেই পড়ুয়াদের বিজ্ঞান ও মহাকাশ নিয়ে ভাবতে শেখানো- এই উদ্যোগ তারই অংশ।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে কেবল প্রযুক্তি নয়, দুই দেশের সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
এয়টেন স্টিব্বের মহাকাশ যাত্রা
২০০৩ সালে কলোম্বিয়া স্পেস শাটল দুর্ঘটনায় নিহত প্রথম ইজরায়েলি মহাকাশচারী ইলান রামনের পথ অনুসরণ করেন এয়টেন। অ্যাকজিয়ম -১ মিশনের মাধ্যমে দেশের জনগণের মধ্যে ফের মহাকাশের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনও সরকারি সাহায্য ছাড়াই নিজের উদ্যোগে এই মিশনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
মহাকাশচারী জানান, 'রামন আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। ২০০৩ সালে কলোম্বিয়া এসটিএস-১০৭ স্পেস শাটলে মহাকাশী গিয়েছিলেন তিনি। সেই মিশনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা (Kalpana Chawla)। ১৪ দিন মহাকাশে থেকে অনেক কাজ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেননি।' সেই দুর্ঘটনা ইজরায়েলিদের মনে মহাকাশ যাত্রা নিয়ে গভীর সংশয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছিল। যে কারণে স্টিব্বে তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে মহাকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে এয়টেন বলেছিলেন, 'মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকালে বোঝা যায়, মানুষের জীবন যেন একটি বায়ুর চাদরে মোড়ানো- যা ভীষণ কোমল ও ভঙ্গুর।'
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দুজনেই ভাল বন্ধ। তাঁরা চাইলেই এই উদ্যোগে সামিল হতে পারেন, অনুরোধ জানিয়েছেন এয়টেন স্টিব্বে।