এই ভিডিও সামনে আসতেই ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সব পথকুকুরকে ধরপাকড় করে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

প্রৌঢ়ের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলা কুকুরের!
শেষ আপডেট: 18 August 2025 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে যখন পথকুকুর নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, সেইসময় সামনে এল এক ভয়াবহ ঘটনা। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভবিনগর এলাকায় কুকুরের কামড়ে গুরতর জখম হলেন এক প্রৌঢ়া (Stray Dog Bites Elderly Man On Face)। এই ঘটনার মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, এই নিয়ে এলাকার ১৪ জন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার রাতে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গলির রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রৌঢ়। হঠাৎ একটি কুকুর ছুটে এসে তাঁর ওপর লাফিয়ে পড়ে। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। এরপরই কুকুরটি তাঁর মুখে কামড় দেয়। হাতেও গুরুতর চোট পান ওই আক্রান্ত প্রৌঢ়। এলাকার লোকেরাই ছুটে এসে কুকুরটিকে তাড়ায় এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রৌঢ় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরও একটি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, তাঁর হাত ও মুখে রক্তাক্ত চিহ্ন, আর রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে রক্তের ফোঁটা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই একই কুকুর এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জনকে আক্রমণ করেছে। তবু পুরসভার কর্মীরা তাকে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এই ভিডিও সামনে আসতেই ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। কারণ, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সব পথকুকুরকে ধরপাকড় করে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান কুকুর কামড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অন্য একটি বেঞ্চে মামলা দাখিল হয়েছে।
এই রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশুপ্রেমীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। অন্যদিকে, বহু মানুষ এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পথকুকুরের হামলায় বারবার শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই এই পদক্ষেপ জরুরি।
তবে নির্দেশ কার্যকর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল দিল্লিতেই পথকুকুরের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। সব কুকুরকে রাখার জন্য হাজার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। যার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। একইসঙ্গে কুকুরদের খাওয়ানো ও দেখভালের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত রাখতে হবে।
শীর্ষ আদালতের নতুন বেঞ্চ এ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পশুর জন্ম নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে পুরসভাগুলি। সেই কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছে।