সূত্র অনুযায়ী, পিএমএমএল-এর তরফে পাঠানো চিঠির জবাবে প্রথমবার সাড়া দিলেন সনিয়া গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন, “বিষয়টি তাঁর দফতরের কর্মীরা দেখবেন।”

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 16 December 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেহরুর (Jawaharlal Nehru) ব্যক্তিগত নথি ঘিরে টানাপড়েন এড়াতে উদ্যোগী হলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। সূত্রের খবর, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত চিঠিপত্র ও নথি ফেরত পাওয়ার বিষয়ে 'প্রধানমন্ত্রীস মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি' (পিএমএমএল)-র সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Nehru papers)।
সূত্র অনুযায়ী, পিএমএমএল-এর তরফে পাঠানো চিঠির জবাবে প্রথমবার সাড়া দিলেন সনিয়া গান্ধী। তিনি জানিয়েছেন, “বিষয়টি তাঁর দফতরের কর্মীরা দেখবেন।” যদিও এই বিষয়ে পিএমএমএল কিংবা সনিয়া গান্ধীর দফতর— কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে চায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে— কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে তৎকালীন নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি (এনএমএমএল) থেকে ৫১টি কার্টনে রাখা নেহরুর ব্যক্তিগত নথির একটি বড় অংশ সনিয়া গান্ধী ফিরিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর এই প্রথম তাঁর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মিলল।
চলতি বছরে দু’দফায় সনিয়াকে চিঠি দেয় পিএমএমএল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেহরু সংক্রান্ত তাঁর হেফাজতে থাকা সমস্ত চিঠিপত্র ও নথি গবেষক ও ইতিহাসবিদদের স্বার্থে সংগ্রহশালায় ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পিএমএমএল-এর নথি অনুযায়ী, ওই সংগ্রহে নেহরুর সঙ্গে জয়প্রকাশ নারায়ণ, এডউইনা মাউন্টব্যাটেন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, অরুণা আসফ আলি, বিজয়ালক্ষ্মী পণ্ডিত এবং জগজীবন রামের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠিপত্র রয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম চিঠি পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর মেলেনি বলে সূত্রের দাবি। ওই চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল পিএমএমএল সোসাইটির ২০২৪ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায়, যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে নথিগুলি ফেরত আনার আইনি দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সভাতেই প্রথম সরকারি ভাবে উল্লেখ করা হয় যে নেহরু সংগ্রহের একটি অংশ সনিয়া গান্ধী ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।
এরপর ২৩ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পরবর্তী এজিএমে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে বিষয়টি ফের তোলা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নির্মলা সীতারামন, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অশ্বিনী বৈষ্ণব-সহ পিএমএমএল-এর চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র, ডিরেক্টর অশ্বিনী লোহানি, স্মৃতি ইরানি, প্রসূন জোশীর মতো সদস্যরা। সেই সভায় জোরালো মত উঠে আসে, নেহরুর নথিপত্র ‘জাতীয় সম্পদ’ এবং সেগুলির উপযুক্ত স্থান পিএমএমএল-এই।
সভায় আরও বলা হয়, একবার দান বা হস্তান্তর করা নথি আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ফেরত নেওয়া যায় না। যেহেতু ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী এই নথিগুলি দান করেছিলেন, তাই মালিকানা, সংরক্ষণ ও কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়গুলি নতুন করে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল ফান্ড সম্প্রতি ডিজিটাল নেহরু আর্কাইভ চালু করেছে, যেখানে ‘সিলেক্টেড ওয়ার্কস অফ জওহরলাল নেহরু’-র ১০০টি খণ্ড, প্রায় ৩৫ হাজার নথি বিনামূল্যে ডাউনলোডের সুযোগ রয়েছে। তবু মূল নথির ভবিষ্যৎ কোথায়, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলের।