ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন মানুষ মিলে গাড়িটি সরানোর চেষ্টা করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা মোটরবাইক।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত অ্যাম্বুল্যান্সটি তোলার চেষ্টা চলছে তখন
শেষ আপডেট: 2 November 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবন বাঁচানোর গাড়িই কেড়ে নিল দু’টি তরতাজা প্রাণ। শনিবার গভীর রাতে বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) রিচমন্ড সার্কেলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। দ্রুতগতিতে ছুটে আসা এক অ্যাম্বুল্যান্সটির বিরুদ্ধে লাল সিগনাল না মানার (ambulence ignored red signal) অভিযোগ উঠেছে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একের পর এক মোটরবাইককে ধাক্কা মারে গাড়িটি (Bengaluru ambulance accident)। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক দম্পতির (couple died in Bengaluru ambulance accident)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। রিচমন্ড সার্কেলের কাছে সিগনাল লাল থাকায় বেশ কয়েকটি মোটরবাইক দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে এসে পড়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিনটি মোটরবাইককে ধাক্কা মারেন। একটি স্কুটারকে কয়েক মিটার টেনে নিয়ে যায় গাড়িটি, তারপর গিয়ে সোজা ধাক্কা মারে রাস্তার ধারে থাকা পুলিশ আউটপোস্টে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান স্কুটার আরোহী ৪০ বছর বয়সি ইসমাইল এবং তাঁর স্ত্রী সামিন বানু। দু’জনেই ডিও মডেলের স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, আরও দু’জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ও পথচারীরা মিলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত অ্যাম্বুল্যান্সটি তোলার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন মানুষ মিলে গাড়িটি সরানোর চেষ্টা করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙাচোরা মোটরবাইক। দেখা যাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ আউটপোস্টও।
ঘটনার খবর পেয়ে উইলসন গার্ডেন ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুল্যান্সের চালক অশোককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যেসব যানবাহন রাস্তায় নামে, সেই অ্যাম্বুল্যান্সই যে এক মুহূর্তে দুই প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। স্থানীয়দের দাবি, রাত্রে ওই এলাকায় ট্রাফিক সিগনাল না মানার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের প্রতি আরও কড়া নজরদারির দাবি উঠেছে।