ভাষা-বিতর্কের আবহে ভাগবতের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

শেষ আপডেট: 1 January 2026 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাষা, জাত এবং আর্থিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ঐক্যের বার্তা দিলেন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। বুধবার ছত্তীসগড়ের রায়পুর জেলার সোনপাইরি গ্রামে এক ‘হিন্দু সম্মেলন’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তত বাড়ির ভিতরে সবাইকে মাতৃভাষায় কথা বলা উচিত। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতের সব ভাষাই সমান মর্যাদার অধিকারী (RSS Mother Tongue)।
ভাষা-বিতর্কের আবহে ভাগবতের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের একাধিক আঞ্চলিক দলের অভিযোগ, মোদী সরকার হিন্দিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে কোণঠাসা করছে— এই পরিস্থিতিতে আরএসএস প্রধানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনা উসকে দিল।
পাশাপাশি, দেরাদুনে ত্রিপুরার ছাত্রী অ্যাঞ্জেল চাকমার হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর উপর জাতিগত বিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভের আবহেও সামাজিক সম্প্রীতির উপর জোর দিলেন ভাগবত।
আরএসএস প্রধান বলেন, “নিজের রাজ্যের বাইরে থাকলে সেই রাজ্যের ভাষা শেখা উচিত। কারণ ভারতের সব ভাষাই জাতীয় ভাষা— কোনও ভাষাই ছোট বা বড় নয়।” তাঁর কথায়, দেশ সবার, আর ঐক্যই ভারতের পরিচয়।
ভাগবতের বক্তব্যের প্রশংসা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল বলেন, “ভারত এমন এক দেশ, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ বললেই সে ভারতীয়। মোহন ভাগবত যে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তার কথা বলেছেন, তা একেবারেই যথার্থ।” উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকও বলেন, সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বার্তাই বরাবর দিয়ে আসছেন আরএসএস প্রধান।
শিবসেনা নেত্রী শাইনা এনসি-র মতে, ভারত বরাবরই সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক। তাঁর কথায়, “ভাষা, জাত, ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করাই আসল।” তবে বিরোধীদের একাংশ এই বক্তব্যে দ্বিচারিতার গন্ধ পাচ্ছেন। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা প্রশ্ন তুলেছেন, “মোহন ভাগবত কার আদর্শের প্রতিনিধি? বিজেপির নয় কি? তাহলে তাঁর কথাগুলি প্রথমে বিজেপিকেই মানা উচিত।”
ত্রিপুরার ছাত্রীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে ভাষাগত ও জাতিগত বৈষম্যের ঘটনায় আরএসএস বা বিজেপির নীরবতাই বেশি চোখে পড়ে। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিরও কটাক্ষ, “এই বক্তব্যে বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হবে না। দক্ষিণ ভারতে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আগে বন্ধ করতে হবে বিজেপিকে। মোহন ভাগবতের উচিত নিজের সংগঠন ও দলকে আগে বোঝানো।”