বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিপীড়ন প্রসঙ্গে সংঘপ্রধান বলেন, ভারতের হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর মত, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সর্বত্র হিন্দু সমাজেরই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

মোহন ভগবত
শেষ আপডেট: 21 December 2025 17:43
বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (WB Polls 2026)। ঠিক তার আগেই কলকাতায় (Kolkata) আরএসএস-এর (RSS) শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। রবিবারের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখিও হন তিনি। রাজনীতি থেকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ, ধর্ম ও সরকারের ভূমিকা - একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরএসএস প্রধান।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও তার প্রভাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), কাজী মাসুম আখতার ও খগেন মুর্মুর মতো ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত বলেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব যে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) পড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত খোলা থাকবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের। তবে সীমান্ত খোলা থাকলে কে ঢুকছে, কীভাবে ঢুকছে - তার দায়ও সরকারকেই নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের (Minority Hindus) নিপীড়ন প্রসঙ্গে সংঘপ্রধান বলেন, ভারতের হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর মত, শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সর্বত্র হিন্দু সমাজেরই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাবে কিনা - এই প্রশ্নে সরাসরি কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করেননি ভাগবত। বরং তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার দায়িত্ব ভোটারদেরই (Voters)। তাঁর কথায়, রাজনীতি নয়, সমাজ পরিবর্তন নিয়েই ভাবেন তিনি। রাজ্যে পরিবর্তন হবে কি না, তা জনগণই ঠিক করবেন।
মুর্শিদাবাদে প্রস্তাবিত মসজিদ নির্মাণ (Murshidabad Mosque) এবং সরকারি অর্থে ধর্মীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গে আরএসএস প্রধান বলেন, সংঘ মুসলিম বিরোধী - এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। যাঁরা কাছ থেকে সংঘকে (RSS) দেখেছেন, তাঁরাই জানেন আরএসএস কোনও ধর্মের বিরোধী নয়। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেই তাঁর মত।
দিঘায় জগন্নাথধাম (Digha Jagannath Dham) বা মহাকাল মন্দির নির্মাণে সরকারি ভূমিকা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সরকার আসবে-যাবে, কিন্তু ধর্ম থাকবে। সরকারের কাজ ধর্মস্থান তৈরি করা নয়। সরকার নিরাপত্তা বা রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু সরাসরি ধর্মীয় নির্মাণ আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
সব মিলিয়ে, আরএসএস-এর শতবর্ষের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলার ভোট-রাজনীতি নিয়ে সরাসরি দিশা না দেখালেও, মোহন ভাগবতের বক্তব্যে স্পষ্ট - রাজনৈতিক প্রশ্নে সংযম, আর সমাজ ও ধর্মের প্রশ্নে স্বতন্ত্র অবস্থানেই থাকতে চায় সংঘ নেতৃত্ব।