সোনমের বাবা দেবী সিংও স্বীকার করেছেন যে, রাজকে তিনি বিয়ের আগে থেকেই চিনতেন। কিন্তু, সেই যে রাজ কুশওয়া তা বুঝতে পারেননি।

মৃত রাজা রঘুবংশী। সোনম ও রাজ কুশওয়া।
শেষ আপডেট: 9 June 2025 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে খুন হওয়া ইন্দোরের রাজা রঘুবংশীকে সুপারি কিলার লাগিয়ে মারা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। রাজার নববিবাহিত স্ত্রী সোনম এই কাজে তাঁর ‘প্রেমিক’ বলে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় থাকা রাজ কুশওয়াকে ধরেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের আগে থেকেই রাজের সঙ্গে সোনমের প্রেম ছিল। এবং প্রেমিকার থেকে বয়সে পাঁচ বছরের ছোট রাজই এই খুনের ছক কষেন। সোনমের বাবা দেবী সিংও স্বীকার করেছেন যে, রাজকে তিনি বিয়ের আগে থেকেই চিনতেন। কিন্তু, সেই যে রাজ কুশওয়া তা বুঝতে পারেননি।
পুলিশি তদন্ত জানা গিয়েছে, সোনমের বাবার ইন্দোরে একটি ছোট প্লাইউড কারখানা রয়েছে। সেই কারখানায় রাজ কুশওয়া কাজ করতেন। আরেকটি সূত্র জানাচ্ছে, কারখানাটি আসলে সোনমের দাদার নামে। সোনম মাঝেমধ্যেই এই কারখানায় আসতেন। সেখানেই তাঁদের পরিচয় থেকে প্রেমপর্ব শুরু হয়। রাজ সেখানে অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাজ করতেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও সোনম জানতেন, রাজ তাঁর থেকে পাঁচ বছরের ছোট। পুলিশের সন্দেহ, এই প্রেম জিইয়ে রাখতেই সোনম এবং রাজ মিলে রাজাকে খুনের ছক কষেন।
প্রসঙ্গত, ইন্দোরের পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী ও প্লাইউড ব্যবসায়ী সোনমের বিয়ে হয় গত ১১ মে। ধুমধাম করে বিয়ের ৯ দিন পর গত ২০ মে নবদম্পতি মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় যান। ২২ মে তাঁরা একটি ভাড়া করা স্কুটারে চেপে ট্রেকিং করে নুঙ্গরিয়াত গ্রামে লিভিং রুটস ব্রিজ দেখতে যান। সেখানেই তাঁরা একটি হোমস্টেতে রাত কাটিয়ে ২৩ মে সকালে বেরিয়ে যান। তারপর থেকেই দুজনেরই খোঁজ মিলছিল না।
এই ঘটনায় সোনমের বাবা নিজের মেয়েকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও রাজ কুশওয়াকে চিনতেন বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। আমি রবিবার পর্যন্ত ছেলেটাকে রাজ বলেই জানতাম। কিন্তু, সোমবারই জানলাম যে ওর নাম রাজ কুশওয়া। ছেলেটি আমার ওখানেই কাজ করত, বলেন দেবী সিং। তাঁর আরও অভিযোগ, মেঘালয় পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমার মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে। আমার মেয়ে খুন করতেই পারে না। যদিও মেঘালয় পুলিশ এদিনই ধৃতদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা।