খুনের কথা সোনম স্বীকার করলেও তাঁর বাবার দাবি সোনম এমন কিছুই করতে পারেন না।

দেবী সিং ও সোনম
শেষ আপডেট: 9 June 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘালয় পুলিশ মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে তাঁর মেয়েকে। সিবিআই তদন্তের দাবি তুললেন সোনম রঘুবংশীর বাবা দেবী সিং। ইন্দোরের রাজা রঘুবংশী খুনে পুলিশ রাজার (Raja aghuwanshi) স্ত্রী সোনম-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন সোনম (Sonam Raghuwanshi)। প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে মিলে রাজাকে খুনের ছক কষেন তিনি।
সোমবার সোনমের গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবী সিং বলেন, 'আমার মেয়ে নির্দোষ। আমি ওকে বিশ্বাস করি। ও এমন কিছু করতেই পারে না। আমাদের দুই পরিবারের সম্মতিতে ওদের বিয়ে হয়েছিল। মেঘালয় সরকার শুরু থেকেই মিথ্যে বলছে।'
খুনের কথা সোনম স্বীকার করলেও তাঁর বাবার দাবি সোনম এমন কিছুই করতে পারেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে ভাইকে ফোন করেছিলেন সোনম (Sonam Raghuwanshi)। সে কথা আধিকারিকদের তাঁর পরিবারই জানায়। পুলিশ পরে সোনমকে গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনা উল্লেখ করে দেবী সিংয়ের দাবি, 'সোনম স্বেচ্ছায় উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের এক ধাবায় গিয়ে তাঁর ভাইকে ফোন করেছিলেন। মেঘালয়ে ওকে গ্রেফতার করা হয়নি। নিজেই গাজিপুর চলে আসে। তারপর পুলিশ ধরে। আমি এখনও মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। আমার মেয়ে কেন ওর স্বামীকে মারবে? মেঘালয় পুলিশ গল্প বানাচ্ছে।'
চলতি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেবী সিং জানান, তাঁরা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দ্বারস্থ হবেন। সিবিআই তদন্ত শুরু হলে মেঘালয়ের সব পুলিশ জেলে যাবে।
প্রায় দশ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ ধরে সোনমকে। আপাতত উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে তাঁকে। মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছে, আইন মেনেই তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে মেঘালয় নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, সোনমের সঙ্গে আগে থেকে সম্পর্ক ছিল মধ্যপ্রদেশের রাজ কুশওয়াহার। বিয়ের পরও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান তরুণী। তাতে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। রাজের সঙ্গে খুনের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেন। অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশ থেকে কয়েক জনকে ভাড়া করে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী মেঘালয়ে খুন করা হয়।
তদন্ত চলাকালীন এক স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড জানিয়েছিলেন, ওই দম্পতিকে শেষ দেখা গিয়েছিল তিন অচেনা পুরুষের সঙ্গে। এরপর ২ জুন চেরাপুঞ্জির এক গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজা রঘুবংশীর পচাগলা দেহ। তাঁদের ভাড়া করা স্কুটারও পরে অদূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, চাবি তখনও গাড়িতে লাগানো ছিল।
মেঘালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) ইদাশিশা নংরাং জানিয়েছেন, সোনম এই ঘটনার ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চতুর্থ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।