বন্যার জলে আটকে পড়েছিল তাঁর ছেলে জঙ্গম স্বামী। মায়ের আকুল প্রার্থনা— “পায়ে পড়ি, আমার ছেলেকে বাঁচান, ৩০ ঘণ্টা হয়ে গেল”।
.jpeg.webp)
ছেলেকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা
শেষ আপডেট: 29 August 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টিতে বন্যায় বিপর্যস্ত (Flood) তেলঙ্গানার (Telengana Rain) একাধিক জেলা। এই পরিস্থিতিতে রাজন্না সিরসিল্লা জেলায় এক মায়ের হাহাকার গোটা রাজ্যের চোখে জল এনেছে। টানা ৩০ ঘণ্টা ছেলের জন্য প্রাণপণ অপেক্ষা করেন লক্ষ্মী দেবী (Son Swept Away, Telangana Mother Waits For 30 Hours)। বন্যার জলে আটকে পড়েছিল তাঁর ছেলে জঙ্গম স্বামী। মায়ের আকুল প্রার্থনা— “পায়ে পড়ি, আমার ছেলেকে বাঁচান, ৩০ ঘণ্টা হয়ে গেল”। হতাশায় ভেঙে পড়েও বারবার উদ্ধারকারী বাহিনীর (NDRF) কাছে আকুতি জানান তিনি।
Anguish of mother Lakshmi waiting for her son trapped in #floodwaters #Telangana #Sircilla: "Please save my son. It’s been 30 hours" Repeated chopper attempts failed due to adverse weather; Finally JangamSwamy returned to tears of welcome, thanked rescuers for giving him 2nd life pic.twitter.com/5EdkSuzpdm
— Uma Sudhir (@umasudhir) August 28, 2025
একাধিকবার উদ্ধারকার্যে ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত ভরসা জাগাল আকাশপথ। নাটকীয় অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার টেনে তোলে জঙ্গমকে। মা-ছেলের আলিঙ্গন যেন এক মহা শান্তির ছবি হয়ে ওঠে। জঙ্গম নিজেও কৃতজ্ঞচিত্তে বলেন, “আমায় দ্বিতীয় জীবন দিলেন উদ্ধারকারীরা”।
এদিকে, মেদক জেলায় দুঃসময়ের লড়াই অন্য রকম। প্রসব বেদনায় কাতর এক গর্ভবতী মহিলাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন এনডিআরএফ কর্মীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের ‘ফ্লুরোসেন্ট কমলা নাইটস’ বলা হচ্ছে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছনোর ফলে প্রাণে বাঁচলেন মা ও সদ্যোজাত সন্তান।
কমারেড্ডি জেলায় পুলিশের দুঃসাহসিক ভূমিকা নজর কেড়েছে। বুকসমান জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেবল দড়ির সাহায্যে উদ্ধার করেন আটকে পড়া ১০ জনকে। কাউকে কাঁধে তুলে, কাউকে টেনে বাঁচিয়ে তোলেন বীর পুলিশকর্মীরা। তাঁদের এখন বলা হচ্ছে ‘সবাইয়ের নায়ক’।
নির্মল জেলায় বিশেষ নৌকা নামিয়ে বাঁচানো হয়েছে শঙ্কর নায়েককে। তবে সব কাহিনি সুখের হয়নি। রাজপেট ব্রিজ পার হতে গিয়ে বন্যায় ভেসে গিয়েছেন দুই ব্যক্তি— সত্যম ও যদা গৌড়। তাঁদের এখনও খোঁজ মেলেনি। প্রাক্তন সেচমন্ত্রী হরিশ রাও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের খুঁটি আঁকড়ে ছিলেন দুই ব্যক্তি, তবু হেলিকপ্টার পাঠানো হয়নি।”
রাজ্যের আবহাওয়া দফতরের দাবি, গত ৫০ বছরে স্বল্প সময়ে এত বৃষ্টি হয়নি। কামারেড্ডি ও মেদক জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। বহু পরিবার গৃহহীন, বহু গ্রাম জলবন্দি।
এই ভয়াবহ বন্যার মধ্যেও উঠে এসেছে মানবতার উজ্জ্বল ছবি। কখনও মায়ের কান্না, কখনও সাহসী পুলিশের ত্যাগ, কখনও সেনার অক্লান্ত প্রচেষ্টা— দুর্যোগের অন্ধকারে এভাবেই আলোর দিশা দেখাচ্ছে তেলঙ্গানার মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।
গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড বৃষ্টির সাক্ষী থেকেছে তেলঙ্গানার কামারেড্ডি এবং মেডাক জেলা। কামারেড্ডির রাজমপেট এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেমিরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। মোট ২৩টি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২০ সেন্টিমিটারের বেশি, যার মধ্যে কামারেড্ডির ১০টি, নির্মলের চারটি, মেডাকের ছ’টি এলাকা রয়েছে।