এদিন বিতর্কের জবাবে আফগান বিদেশমন্ত্রী (Afghan Foreign Minister) বলেন, প্রথম বৈঠকে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার ঘটনা ‘‘ইচ্ছাকৃত নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল।’’

তালিবান সরকারের আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি
শেষ আপডেট: 12 October 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে তালিবান সরকারের আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির (Amir Khan Muttaqi)। রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে মহিলা সাংবাদিকদের (Woman Journalist) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত শুক্রবারের প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে কোনও মহিলা সাংবাদিককে না ডাকায় তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন মুত্তাকি। এদিন বিতর্কের জবাবে আফগান বিদেশমন্ত্রী (Afghan Foreign Minister) বলেন, প্রথম বৈঠকে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার ঘটনা ‘‘ইচ্ছাকৃত নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল।’’
শুক্রবারের ওই বৈঠকে পুরুষ সাংবাদিকদের নিয়েই বৈঠক সারেন মুত্তাকি। ছবি ও খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলা সাংবাদিক থেকে শুরু করে, নারী অধিকার কর্মী থেকে বিরোধীরাও।
ভারতের Editors Guild of India এবং Indian Women’s Press Corps একযোগে অভিযোগ তোলে, ‘‘এটা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ। কূটনৈতিক প্রটোকল বা ভিয়েনা কনভেনশনের দোহাই দিয়ে এর সমর্থন করা যায় না।’’ বিতর্ক বাড়তেই রবিবার নতুন করে সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেন মুত্তাকি। যেখানে জানানো হয়, ‘‘এ বার সকল সাংবাদিকের জন্য অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।’’
শুক্রবারের ঘটনায় মুত্তাকির সাফাই “প্রথম বৈঠকটি খুব অল্প সময়ে আয়োজন করতে হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা তৈরি হয়েছিল এবং তাতে কেবল কয়েকজন সাংবাদিকের নামই ছিল। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কারও অধিকার নারী বা পুরুষ— কেড়ে নিতে চাই না। সময়ের অভাবে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে ডাকা হয়েছিল।”
তালিবান মন্ত্রীর পুরুষ-সর্বস্ব সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে বিতর্কের দায়ভার নিতে চায়নি ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রের দাবি, ‘‘সেই বৈঠকের আয়োজনের সঙ্গে ভারতের কোনও সম্পর্ক ছিল না।’’ তবে বিরোধীরা কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, “মোদীজি, আপনি যখন নারী সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে এমন বৈঠক হতে দেন, তখন প্রতিটি ভারতীয় মহিলাকে বার্তা দেন যে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি আপনার নেই।”
প্রিয়ঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যদি নারী অধিকার নিয়ে আপনার অবস্থান সত্যিই নীতিগত হয়, তবে এমন অপমান কীভাবে মেনে নেওয়া হল?’’ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও বলেন, “এটা লজ্জাজনক। ভারতের মাটিতে নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া মানে প্রতিটি ভারতীয় মহিলাকে অসম্মান করা।”
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের শিক্ষার অধিকার ও কাজের সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত তালিবান। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হয় না, অধিকাংশ সরকারি চাকরি থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ‘‘নারীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে’’ এবং তা ‘‘পদ্ধতিগত ও সুসংগঠিত’’।
রবিবারের দ্বিতীয় সাংবাদিক বৈঠকে মুত্তাকি যা যা বললেন,
মহিলাদের শিক্ষার প্রসঙ্গে মুত্তাকির দাবি, “আফগানিস্তানের অনেক জায়গায় মেয়েরা ইতিমধ্যেই পড়াশোনা করছে। শিক্ষা হারাম নয়।”
ভারতীয় সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকীর মৃত্যুর প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “আমরা সমস্ত প্রাণহানির জন্য দুঃখিত। গত চার বছরে কোনও সাংবাদিকের ক্ষতি করা হয়নি।” মুত্তাকি আরও বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘‘জনগণের কোনও শত্রুতা নেই’’। সমস্যা তৈরি করছে ‘‘কিছু দুষ্ট উপাদান’’। “আমরা শূন্য উত্তেজনা চাই। কিন্তু আলোচনায় ফল না হলে অন্য পথও আছে,”— মন্তব্য আফগান বিদেশমন্ত্রীর। দাবি করেন, আফগান মাটিতে পাকিস্তানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপির কোনও ঘাঁটি নেই।