সূত্রের খবর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi) এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তবে তিনি স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন না।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 October 2025 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় (Gaza) চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শান্তির নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। সেই লক্ষ্যেই মিশরের শার্ম এল শেখ শহরে আয়োজিত হতে চলেছে ‘গাজা পিস সামিট’ (Gaza Peace Summit), যার সহ-সভাপতিত্ব করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট (Egypt) আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি।
সূত্রের খবর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi) এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তবে তিনি স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন না। তাঁর প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এই খবর নিশ্চিত করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, যার মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রো।
আরব দুনিয়ার স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করাই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির পর এটি শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে, যার ফলে প্যালেস্তাইনের বহু বাস্তুহারা পরিবার ধ্বংসস্তূপে ফিরতে পেরেছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। হামাস ঘোষণা করেছে, তারা শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না। ট্রাম্পের পরিকল্পনার বেশ কিছু ধারা, বিশেষত নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে, তাদের আপত্তি রয়েছে। হামাসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, “গাজাবাসীদের স্থানান্তর প্রস্তাব হাস্যকর ও গ্রহণযোগ্য নয়।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের পর ইজরায়েলি প্রতিশোধে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা প্রায় দুই বছর পর এই প্রথম শান্তির আভাস এনেছে। শান্তি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ইজরায়েল ২৫০ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে হামাস ছেড়ে দেবে ৪৭ জন ইজরায়েলি জিম্মি।
চুক্তি কার্যকর করতে একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই দলে যুক্ত থাকবে মিশর, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
তবু বিশ্লেষকদের মতে, গাজা প্রশ্নে স্থায়ী শান্তি এখনও অনিশ্চিত। নিরস্ত্রীকরণ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত। তবু এই সম্মেলন আরব দুনিয়ার ইতিহাসে শান্তির পথে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে আশা আন্তর্জাতিক মহলের।